‘বাড়িঘর-চুলায় পানি, মানুষ ভাত পাক করেও খাইতে পারছে না’

 

‘বাড়িঘর-চুলায় পানি উঠে গেছে, মানুষ ভাত পাক করেও খাইতে পারছে না। চিড়া মুড়ি, শুকনা খাবার খাইতেছে মানুষ।’ - ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তির এমন উত্তরে উঠে এসেছে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ।

উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম তেজবুনিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ঘের-বেড়িবাঁধ সবই তো ডুবে শেষ। এমন কোনো রাস্তা নেই যেটি ভাঙেনি’।

bagerhat1

স্থানীয় ফুলহাতা এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়া বলেন, ৩৫ বছর ধরে এমন অবস্থা দেখছি। চেয়্যারম্যান-মেম্বার যেই এলাকায় আসেন বলেন যে রাস্তা ঠিক করে দেব। কিন্তু শুকনো মৌসুমে কোনো কাজ করা হয় না।

জানা যায়, মোড়েলগঞ্জের সন্যাসী থেকে ঘষিখালি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নেই। ফলে বর্ষা মৌসুম, ঘূর্ণিঝড় আর জলোচ্ছ্বাসে প্রতিবছরই এমন সমস্যার মুখোমুখি হন উপজেলার বহরবুনিয়া, বারুইখালি, ঝিউধারা, খাওলিয়া ইউনিয়নের লাখো মানুষ।

bagerhat1

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, একবার বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশনায় সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে নদী তীর সংরক্ষণ করা গেলেও এলাকার মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া আছে।

তিনি আরও বলেন, সমুদ্রের নিকটবর্তী হওয়ায় এ এলাকার মানুষদের এসবের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে চলতে হয়। খুব দ্রুত ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধের উদ্যোগ নেয়াও জরুরি।

সালমান শাকিল/এসএমএম/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]