পরিশ্রম করে পেয়েছেন ‘চেয়ার’, তাই ডাকতে হবে ‘স্যার’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
প্রকাশিত: ১১:০২ এএম, ৩১ মে ২০২১

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাশকে এক সাংবাদিক স্যার না ডেকে ভাই বলে সম্বোধন করায় আপত্তি তুলেন তিনি। এসময় পরিশ্রম করে 'এই চেয়ার' পাওয়ায় তাকে স্যার বলে ডাকতে হবে জানান তিনি।

রোববার (৩০ মে) দুপুরে শিবচর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে কৃষি বিষয়ক তথ্য জানতে গিয়ে রফিকুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক সাংবাদিক তাকে ভাই ডেকে এ বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হন।

তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া ওই সাংবাদিক জানান, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় শিবচরে বোরো ধানচাষের আবাদ সম্পর্কে তথ্য আনতে কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে যান। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে তাকে ভাই বলে ডাকলে ক্ষুব্ধ হন তিনি।

ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ বলেন, ‘আপনাদের ভাই বলে ডাকার রেওয়াজ আর গেল না। আপনি জানেন এই চেয়ারে বসতে আমাদের কত কষ্ট করতে হয়েছে?'

এরপর ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কোনো কথা না বলে তাকে বসিয়ে রাখেন তিনি। সাত-আট মিনিট পর তথ্যের জন্য অফিস সহকারীর সঙ্গে দেখা করতে বলেন তাকে।

সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বলেন, 'আমি কোনো ব্যক্তিগত কাজে যাইনি সেখানে। সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য গিয়েছি। তাকে ভাই ডাকায় তথ্য দেয়ার পরিবর্তে তিনি ক্ষোভ ঝাড়েন আমার ওপর।'

শিবচর উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাশ বলেন, ‘স্যার বলা ভদ্রতার অংশ। অভদ্রতা করলে তাকে কী এটি নিয়ে কিছু বলা যাবে না? এছাড়া তার কাজ তো করে দিয়েছি। এটা নিয়ে আবার কী হলো?'

এসময় ভাই বলা অভদ্রতা কি-না এমন প্রশ্ন করায় ফোন রেখে দেন তিনি।

মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এটি নিয়ে কথা শোনানোর তো কিছু নেই। যাই হোক কিছু মনে করবেন না। আমি তাকে বলে দেব, ভবিষ্যতে যেন এমন না করে’।

নাসিরুল হক/এসএমএম/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]