হেফাজতের তাণ্ডবে নেতৃত্ব : ধরাছোঁয়ার বাইরে আ.লীগ সভাপতির ছেলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ৩১ মে ২০২১

গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে মাদরাসার ছাত্র ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের ওপর চট্টগ্রামে হামলার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরদিন ২৭ মার্চ বিকেলে সরাইল উপজেলার অরুয়াইল এলাকায় বিক্ষোভ করে হেফাজতকর্মীরা।

এসময় হামলা চালানো হয় অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে। হামলায় থানার পরিদর্শকসহ (তদন্ত) অন্তত ২৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ ক্যাম্পটি সরিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে হামলায় নেতৃত্ব দেয়ায় ৩০ নম্বর আসামি করা হয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু তালেব মিয়ার ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে।

পুলিশের দাবি- এই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার দীর্ঘ দুইমাস অতিবাহিত হলেও আওয়ামী লীগের সভাপতির ছোট ছেলে ইসমাইলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরাইলের অরুয়াইলে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব মিয়ার তিন ছেলে। এই ঘটনায় প্রথমে একটি মামলায় আসামি করা হয় তার ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে।

এছাড়া এ-সংক্রান্ত আরও ভিডিও ফুটেজ পুলিশের হাতে আসায় পর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেবের আরও দুই ছেলে হাফেজ জাকারিয়া মাহমুদ ও ইউনুস মিয়াকে হেফাজতের মিছিলে থাকার তথ্য পায় পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬-২৮ মার্চ পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, সরাইল ও আশুগঞ্জে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে ২৭ মার্চ বিকেলে উপজেলার অরুয়াইল এলাকায় মোদিবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল করেন সেখানকার হেফাজতকর্মীরা।

সেদিন সেখানে তিনদিক থেকে মিছিলে এসে বিক্ষোভ করেন তারা। পরে মিছিলকারীরা অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালান। এতে থানার পরিদর্শকসহ (তদন্ত) ২৫ পুলিশ সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় ৬৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও এক হাজার ২০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সরাইল থানা পুলিশ। এ মামলার এজাহারভুক্ত ৩০ নম্বর আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবু তালেব মিয়ার ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন। তার আরও দুই ছেলে এ সংক্রান্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এনিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়।

সরাইল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলায় আহত কবির হোসেন বলেন, ‘ইসমাইলসহ জড়িত সব আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সভাপতি আবু তালেবের আরও দুই ছেলেকে ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। আমরা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনব।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামলার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পটি বাতিল করা হয়েছে। তাই আসামিদের ধরতে থানা থেকে প্রত্যন্ত এলাকা অরুরাইল যেতে হচ্ছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইসমাইলকে গ্রেফতার করতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

অরুয়াইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব মিয়া দাবি করেন, তার পরিবারের কেউ বিক্ষোভ মিছিলে যায়নি। অরুয়াইল বাজারে তাদের শতাধিক দোকানপাট রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যেন তাদের দোকানে হামলা না করতে পারে, সেজন্যে তার ছেলেরা সেদিন পাহারায় ছিল।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এএএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।