জীবননগরে সারের কৃত্রিম সঙ্কট, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ১১:১৬ এএম, ০১ জুন ২০২১

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সার বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে টিএসপি সারের কৃত্রিম সংকটের অজুহাত সৃষ্টি করে বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলাররা টিএসপি সারের দাম বাড়িয়েছেন বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। সরকার নির্ধারিত ১১০০ টাকা মূল্যের টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) সার কিনতে পারছেন না তারা। বিসিআইসি এবং বিএডিসি সার ডিলাররা সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।

কৃষকদের দাবি, ডিলাররা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, জীবননগরে সার ব্যবসায় কৃষি বিভাগের বিন্দুমাত্র তদারকি নেই। এতে করে ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছেমতো দামে সার বিক্রি করছেন। সার ডিলারদের ক্যাশমেমোর মাধ্যমে চাষিদের কাছে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও বেশি দামে বিক্রির কারণে তা করছেন না ডিলাররা।

বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলারদের পাশাপাশি খুচরা সার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত সারের খুচরা মূল্য তালিকা দোকানে টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে অধিক দামে সার বিক্রি করলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে কৃষকদের পক্ষে কোনো অভিযোগ কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণাদি নেই। প্রমাণস্বরূপ তারা দোকানের বিক্রি রসিদ বা প্রমাণপত্র চান।

কৃষকরা বলছেন, ডিলাররা যেখানে মূল্য তালিকা টানিয়ে রেখে প্রকাশ্যে বেশি দামে কৃষকদের সার কিনতে বাধ্য করছেন, সেখানে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করলেও রসিদে সরকারি দামের বাইরে অতিরিক্ত দাম উলে­খ করার কথা না। এই সাধারণ বিষয়টিই বুঝতে চাচ্ছেন না উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতাদের কেউ রসিদ দাবি করলে তাদেরকে সরকার নির্ধারিত দাম উল্লেখ করেই রসিদ দেয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার কাছে সার বিক্রি করছেন না।

সোমবার (৩১ মে) বিকেলে জীবননগর উপজেলার মিনাজপুর বাজার, আন্দুলবাড়িয়া বাজার, রায়পুর বাজার, বাড়ান্দি বাজার ও সুটিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সার ব্যবসায়ী সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে সার বিক্রি করছেন না। কোনো অপরিচিত মানুষ সারের দোকানে টিএসপি সার কিনতে গেলে তাকে বলা হচ্ছে সার নেই। পরক্ষণেই পরিচিত কৃষক গেলে তাদের কাছে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। রায়পুর বাজারে এবং বাড়ান্দি বাজারে সোমবার ১১০০ টাকা মূল্যের প্রতিবস্তা টিএসপি সার (মরক্কো) ১২৫০ টাকা এবং বাংলাদেশি টিএসপি ১৬০০ টাকা দরে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

jagonews24

এদিকে বিসিআইসি অনুমোদিত জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের জন্য ট্যাগ করা এমএস ট্রেডার্স, রায়পুর ইউনিয়নের জন্য রাসেল এন্টার প্রাইজ এবং আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের জন্য হক ট্রেডার্সের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কৃষকরা যাতে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে সরকারের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সারাদেশের ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার বিপণনের কাজটি করে থাকেন। সরকারি নিয়ম মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেয়া আছে। ওইসব ডিলারের নিজ নিজ ইউনিয়নেই ব্যবসা পরিচালনা করার শর্তে তাদের ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে। অথচ পৌরসভার মধ্যেই বেশিরভাগ সার ব্যবাসয়ীদের গোডাউন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা শহরের দত্তনগর সড়কের দু’পাশে একাধিক ইউনিয়নের সারের ডিলার রয়েছে। অথচ ওই ডিলারদের ইউনিয়নে গোডাউন রেখে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সার বিক্রির কথা।

রায়পুর ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রামের কৃষক রাজ্জাক আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সারের কোনো ডিলার আছে কি-না আমার জানা নেই। আমরা শহরের গোডাউন থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছি।’

একই কথা জানালেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশীয় টিএসপি সার প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে কিনছি। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য মাত্র ২৪ টাকা।’

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ পেলে ওই সার ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের বেঁধে দেয়া মূল্যে সার বিক্রি করার জন্য উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলারসহ খুচরা সার বিক্রেতাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মুনিম লিংকন বলেন, কৃষকরা হলো দেশের প্রাণ। সার ব্যবসায়ীরা যদি কৃষকদের জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকেন তাহলে ওই দোকানদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সালাউদ্দীন কাজল/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।