‘অধিকার চাওয়ায়’ মেরে মেয়ের হাত ভেঙে দিলেন বাবা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমির অধিকার দাবি করায় মেরে মেয়ের হাত ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলে আহত আসমা বাদী হয়ে বাবাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত বাবার নাম দেলোয়ার হোসেনের। তিনি দেলোয়ার লামচর ইউনিয়নের পানপাড়া এলাকার এনায়েতপুর গ্রামের চৌধুরী পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা।
মামলা সূত্র জানায়, আসমা অভিযুক্ত দেলোয়ারের প্রথম ঘরের সন্তান। তিনি (দেলোয়ার) প্রায় ৩২ বছর আগে আসমার মাকে রেখে আরেক জায়গায় বিয়ে করেন। তখন আসমার বয়স ছিল পাঁচ বছর। এরপর আসমাকে নিয়ে তার মা রামগঞ্জে জগৎপুর এলাকায় (আসমার নানার বাড়ি) চলে যান। কয়েক বছর পর তার মায়েরও অন্য জায়গায় বিয়ে হয়। তার বাবা ১০ বছর কোনো ধরনের খোঁজখবর নেননি আসমার।
বাবা-মা ছাড়া আসমা নানার বাড়িতেই বড় হন। পড়ালেখাও সেখানে করেছেন। বড় হয়ে পরিচয় জানতে পেরে তিনি বাবার বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। তবে সৎমায়ের সংসারে তিনি অবহেলিত ছিলেন। এভাবেই কয়েকবছর কেটে যায়।
সম্প্রতি আসমা জানতে পারেন তার বাবা সব অর্থসম্পদ সৎ ভাই-বোনদেরদের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছেন। তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বুধবার তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে অধিকার দাবি করেন। এতে বাবাসহ সৎ ভাইবোনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এসময় বাবার এলোপাতাড়ি রডের আঘাতে আসমার বাম হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টাও করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
উম্মে আসমা বলেন, ‘সৎমা ও ভাইবোনদের ইন্ধনে আমি অধিকার বঞ্চিত হয়েছি। ৯ বছরের মেয়েটিকে নিয়ে আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি। বাবার কাছে একটু সহযোগিতা চাইতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে হামলার শিকার হলাম। আমি ন্যায্য অধিকার ও আমার ওপর হামলার বিচার চাই।’
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল জলিল বলেন, হামলার ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাজল কায়েস/এসআর/জিকেএস