লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ এএম, ০৫ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের টাকা জন্য শাহিনুর আক্তার শানু নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার।

শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এর আগে মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের উত্তর বাঞ্চানগর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী মো. হান্নান ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক।

নিহতের স্বজনরা জানান, পাঁচ বছর আগে উত্তর বাঞ্চানগর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে অটোরিকশাচালক হান্নানের সঙ্গে শাহিনুরের বিয়ে হয়। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে হান্নান ও হান্নানের পরিবার ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ঘটনার রাতে শাহিনুর ও হান্নানের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হান্নান তাকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালায়। এতে শাহিনুর অচেতন হয়ে পড়েন। মৃত ভেবে শাহিনুরকে ফেলে রেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।

এদিকে, ঘটনার পর প্রতিবেশীরা ঘরে ঢুকে অচেতন শাহিনুরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। শুক্রবার চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।

শাহিনুরের বাবা দুলাল মিয়া ও চাচাতো ভাই জামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, হান্নান বিদেশ যাওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছিল। অস্বচ্ছলতার কারণে ওই টাকা দিতে অপারগতা জানানো হয়। এর জেরেই স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন শাহিনুরকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আনোয়ার হোসেন জানান, ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মতিন বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

কাজল কায়েস/এসএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।