নোয়াখালীতে ডায়রিয়ায় মৃত্যুর রেকর্ড নেই হাসপাতালে
নোয়াখালীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো রেকর্ড উপজেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলায় মৃত্যুর কোনো সঠিক পরিসংখ্যানও নেই।
তবে ২৫০ শয্যার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্র বলছে, এপ্রিল-মে দুই মাসে এ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এক হাজার ৮৭০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এরমধ্যে আটজন মারা গেছেন।
জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শায়লা শারমিন জাহান বলেন, এপ্রিল মাসে ভর্তি হওয়া ৭২০ রোগীর মধ্যে মারা গেছেন তিনজন। মে মাসে এক হাজার ১৫০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, এপ্রিল-মে মাসে ৯ উপজেলা হাসপাতালে দুই হাজার ৯২৪ জন ডায়রিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। তবে এ রোগে মৃত্যুর কোনো রেকর্ড হাসপাতালগুলোতে নেই।

সূত্র জানায়, এ দুই মাসে সূবর্ণচরে ৭৭৯ জন, সদরে ১৩৮ জন, বেগমগঞ্জে ৮৩ জন, চাটখিলে ১১২ জন, সেনবাগে ২১৮ জন, সোনাইমুড়ীতে ৩৬২, কবিরহাটে ২৬৫ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৬০৬ জন ও হাতিয়ায় ৩৬১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে জেলার সূবর্ণচরে ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের দাদি-নাতির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু দাদি-নাতির মৃত্যুর এ রেকর্ড সূবর্ণচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শায়লা সুলতানা ঝুমা বলেন, মে মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৫৭৯ জন রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে কোনো মৃত্যুর ঘটনা নেই। ৩১ মে পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগী ছিল ৬০ জন। এর মধ্যে ৩৯ জনই ডায়রিয়ার রোগী, যার মধ্যে ৩১ মে ভর্তি হয়েছেন ১৪ জন।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কোনো ডায়রিয়া রোগী বাড়িতে মারা গেলেও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে ওই তথ্য হাসপাতালে লিপিবদ্ধ করতে হয়। গত দুই মাসে তার উপজেলায় কোনো রোগী মারা যায়নি বলে তিনি দাবি করেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, এপ্রিল-মে মাসে প্রচণ্ড গরম ও অনাবৃষ্টিতে পুকুরের পানি দূষিত হয়ে লোকজন ডায়রিয়ায় সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্তের দিক থেকে সূবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বেশি। এ জন্য তিনি প্রত্যেক উপজেলায় বিশুদ্ধকরণ ওষুধও বিতরণ করেছেন।
আরএইচ/এমকেএইচ