সিরাজগঞ্জে ১৯ দিনে বজ্রপাতে মারা গেছেন ১৭ জন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ০৬ জুন ২০২১
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জের ছয়টি উপজেলায় গত ১৯ দিনে বজ্রপাতে কৃষক, শ্রমিক, নারী ও শিক্ষার্থীসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববারও (৬ জুন) পাঁচজন মারা গেছেন। এসময় আহত হয়েছেন অনেকে। নিহতদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে।

রোববার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ও বেলকুচিতে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের চর আঙ্গারু গ্রামের আমানত হোসেনের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৬), নরিনা ইউনিয়নের বাতিয়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে আলহাজ বাবুর্চি (৫০), সলঙ্গা ইউনিয়নের আঙ্গারু বাঘমারা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের আগদিঘল গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে, উধুনিয়া মানিকজান উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম (১৫) ও ও বেলকুচি উপজেলার চর সমেশপুর গ্রামের লাইলি বেগম।

বৃহস্পতিবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া উপজেলায় বাঙ্গালা ইউনিয়ন ও বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয় । নিহতরা হলেন-উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের পাড়মোড়দহ গ্রামের মৃত্যু আব্দুর রহিমের ছেলে সেলিম রেজা (৩০) ও বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নের হাওড়া গ্রামের লালচাঁন মিয়ার ছেলে আব্দুল আলিম (৩৭)।

মঙ্গলবার (১ জুন) সকালে কামারখন্দ উপজেলায় বজ্রপাতে ইসলাম মণ্ডল (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের বড়ধুল গ্রামের ইয়াহিয়া মণ্ডলের ছেলে।

গত ৩০ মে বিকেলে শাহজাদপুরে বজ্রপাতে নিহত হন দুই কৃষক। উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের ব্রজবালা লেদুরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এসময় আরও এক নারী আহত হন।

নিহতরা হলেন-ওই গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে সোহেল রানা (৪২) ও আলম মিয়ার ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২৫)। আহত অপরজন একই এলাকার আলম হোসেনের স্ত্রী ফুর্তি খাতুন (২৬)।

২৪ মে বিকেলে শাহজাদপুর উপজেলার চিথুলিয়া, দুগলি ও উল্লাপাড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় বজ্রপাতে চারজন মারা যান।

নিহতরা হলেন- শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের দুগলি গ্রামের আজম ব্যাপারীর ছেলে নাজমুল (১৫), কায়েমপুর ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে হাসেম আলী (২৫) ও সোলাইমান মোল্লার স্ত্রী ছাকেরা বেগম (৫৬) এবং উল্লাপাড়া উপজেলার পশ্চিম কৃষ্ণপুর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেনের মেয়ে মোহনা খাতুন (১৭)। মোহনা খাতুন গয়হাট্টা সালেহা ইসহাক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও নাজমুল স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

১৭ মে সন্ধ্যায় কাজিপুরে দুর্গম চরাঞ্চল চরগিরিশে রুবেল রানা (২৮) নামের এক কৃষক নিহত হন বজ্রপাতে। সন্ধ্যায় সরিষাবাড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

একই দিন রায়গঞ্জে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে হোমিও মেডিকেল কলেজের এক আদিবাসী ছাত্রের মৃত্যু হয়। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বাকাই সিংপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্র নিরঞ্জন সিং (২১) ওই গ্রামের অধীন সিংয়ের ছেলে।

ওইদিন তাড়াশে বজ্রপাতে হালিমা খাতুন (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের নাড়া তেঘুরি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হালিমা খাতুন ওই গ্রামের তোফাজ্জল হোসেনের স্ত্রী।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এসআর/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।