পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি : সাবেক এমপি রানা ও সেই যুবকের সংবাদ সম্মেলন
নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা। সোমবার (৭ জুন) প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বলেন, ১ জুন (মঙ্গলবার) আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আমি নাকি তপন রবিদাস নামের একজনকে রিভলবার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি প্রদান করেছি। এমনকি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শহর ছেড়ে চলে যেতে বলেছি। তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তপন রবিদাস নামে কোনো ছেলেকে আমি চিনি না। কখনো দেখিও নাই। এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক সাজানো নাটক, যার কুশীলবরা পর্দার আড়ালে রয়েছেন।
আমানুর রহমান খান রানা বলেন, একটি মিথ্যা মামলা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় আমি দীর্ঘ ৩৪ মাস ২১ দিন কারাবন্দী ছিলাম। এমন কোনো ষড়যন্ত্র নাই যা আমাকে আটকে রাখার জন্য করা হয় নাই। কিন্তু মহান আল্লাহর মেহেরবানীতে সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে আমি ২০১৯ সালের ৯ জুলাই জামিনে মুক্ত হই। তখন থেকে আমার বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা তৈরি শুরু করতে থাকেন হাইব্রিড নেতারা।
এসময় টাঙ্গাইল জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মির্জা আনোয়ার হোসেন বাবুল, জেলা শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্বাস আলী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ রাজীব, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোতালিব হোসেন, আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তালুকদার মো. শাহজাহান, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাইন উদ্দিন তালুকদার, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফ হোসেন ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ তালুকদার সুজন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপুরে তপন রবি দাসের পক্ষে আরেকটি পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের সহধর্মিণী ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমদ।
তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া তপন রবিদাস নিহত ফারুক আহমদ হত্যাকাণ্ডের একজন প্রতিবাদকারী। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাবেক এমপি রানাসহ খান পরিবারের বিরোধিতা করায় তপন রবিদাসকে রিভলবার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে রানা। তবে এ ঘটনায় অদ্যাবধিও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি প্রশাসন।
তিনি দাবি করেন, খান পরিবারের প্রধান আমানুর রহমান খান রানার নেতৃত্বে পুরো টাঙ্গাইলে আবার অস্ত্রের ঝনঝনানি শুরু হয়েছে। সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিরা খুনি রানার নেতৃত্বে মেতে উঠেছে।
এ সময় জেলা বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির মহাসচিব গোলাম কিবরিয়া বড়মনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার কাউন্সিলর হাজী মোর্শেদ, আমিনুর রহমান আমিন, সদর উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক নূর মোহাম্মদ সিকদার মানিক ও নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের কন্যা ফারজানা আহমদ মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএইচ/এএসএম