শেয়ারবাজারে পচা শেয়ারের দাপট চলছেই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২:৪৬ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬
ফাইল ছবি

দেশের শেয়ারবাজারে দাম বাড়ার দাপট দেখিয়েই চলেছে পচা শেয়ার বা ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। গত সপ্তাহের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার ক্ষেত্রে মহাদাপট দেখিয়েছে জেড গ্রুপের কোম্পানি। দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থানের সবগুলো দখল করেছে জেড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। এর আগের সপ্তাহেও দাম বাড়ার শীর্ষ ১০টি স্থান জেড গ্রুপের দখলে ছিল।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ‘এ’, ‘বি’, ‘এন’ এবং ‘জেড’ গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয় ‘এ’ গ্রুপে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানি থাকে ‘বি’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলো মাঝারি মানের হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিটির ঠিকানা হয় ‘জেড’ গ্রুপে, এ ধরনের কোম্পানিগুলোকে পচা কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর নতুন তালিকাভুক্তি কোম্পানি থাকে ‘এন’ গ্রুপে।

গত সপ্তাহজুড়ে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদার শীর্ষে ছিল ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স। লোকসানে নিমজ্জিত হওয়ায় ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। এই কোম্পানির শেয়ার দাম গত সপ্তাহে বেড়েছে ৫০ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা।

গত সপ্তাহের লেনদেনের শুরুতে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩০ পয়সা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি। এতে এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ২৪ কোটি ৩৯ লাখ ৯১ হাজার ২৭০ টাকা।

দাম বাড়ার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। এক সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। লোকসানে পতিত হওয়ায় ২০১৪ সালের পর এই কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দেয়নি। স্বাভাবিকভাবেই কোম্পানিটির স্থান হয়েছে পচা জেড গ্রুপে।

পরের স্থানে রয়েছে এফএএস ফাইন্যান্স। ২০১৮ সালের পর কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারেনি। গত সপ্তাহে এই কোম্পানিটির শেয়ার দামও ৫০ শতাংশ বেড়েছে। টাকার অঙ্কে প্রতিটি শেয়ার দাম বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা।

২০১৬ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে না পারা ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের শেয়ার দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ২০১৭ সালের পর থেকে লভ্যাংশ দিতে না পারা প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ার দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩১ শতাংশ।

দাম বাড়ার তালিকায় পরের স্থানটিতে থাকা ফ্যামিলি টেক্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এই কোম্পানিটি ২০১৮ সালের পর বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৩ সালের পর কোনো লভ্যাংশ দিতে না পারা এইচ আর টেক্সটাইলের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ।

মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার দাম বেড়েছে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। লোকসানে নিমজ্জিত এই কোম্পানিটি সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই। মেঘনা পেটের শেয়ার দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৯২ শতাংশ। লোকসানে নিমজ্জিত এই কোম্পানিটিও সর্বশেষ কবে লভ্যাংশ দিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো তথ্য ডিএসইর ওয়েবসাইটে নেই। ২০১৯ সালের পর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া প্রাইম ফাইন্যান্সের শেয়ার দাম বেড়েছে ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

এমএএস/​এমআরএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।