জ্বালানি সংকটে ঝুঁকিতে উৎপাদন, প্রয়োজন শিল্প খাতে অগ্রাধিকার
দেশে জ্বালানি সরবরাহে সংকট কিংবা দীর্ঘসূত্রতায় শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ও বিপণনেও সমস্যা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা খুব জরুরি। বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী, ভোজ্যতেল, ওষুধ, সার এবং কৃষি সম্পর্কিত উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর নীতি নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদ, শিল্প উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের সময় শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয় এবং বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতিও বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় পরিকল্পিত ও অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সুতা তৈরির কারখানা, ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। দেশেও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বেশি পরিমাণে তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে জমছে ভিড়। এ অবস্থায় গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
ফলে অনেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছে না। আবার বেঁধে দেওয়া পরিমাণ পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে চলে যাচ্ছে অনেকটা সময়। যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না কোম্পানিগুলো।
আরও পড়ুন
জেনারেটর চালাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না পোশাক মালিকরা
তেল সংকটে বন্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন
জ্বালানি সংকটের চাপ পণ্য সরবরাহে
রোববার থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাবে গণপরিবহন, ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা নেই
শিল্প খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন তারা পর্যাপ্ত জ্বালানি পাচ্ছেন না, আর পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি আনতেও অনেক সময় লাগছে। শিল্প খাতের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি—এমনটাই তারা বলছেন।
ঢাকায় ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার অপেক্ষায় চালকরা, ফাইল ছবি
দেশের অন্যতম বৃহৎ পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা নয়; এটি মূলত একটি বৈশ্বিক সংকটের অংশ। সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বিপণন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার চেষ্টা করছে। তবে এ পরিস্থিতিতে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য এবং উৎপাদনশীল শিল্পখাতে যাতে কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
আরও পড়ুন
‘পেট্রোল-অকটেনের রেশনিং থাকলে চলমান অবস্থার উন্নতি হবে না’
যে কারণে তেলের দাম আপনার ধারণার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ
তেল নিতেই ঘণ্টা পার, আয় কমেছে রাইড শেয়ার চালকদের
জ্বালানি সাশ্রয়ে হোম অফিসের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ড-ভিয়েতনাম
বিশ্বজিৎ সাহা আরও বলেন, এর আগেও বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কারণ জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পণ্য পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণ—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এসব বিষয় সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে তিনি মত দেন।
ঢাকায় জ্বালানি তেল নিতে পেট্রোল পাম্পে ভিড়, ফাইল ছবি: জাগো নিউজ
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিপণন পরিচালক কামরুজ্জামান কামাল বলেন, বর্তমানে তেল সংকট আমাদের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহন এবং বিভিন্ন গন্তব্যে বিতরণের জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত জ্বালানি অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে তেলের স্বল্পতার কারণে পরিবহন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ঘটছে।
‘এ মুহূর্তে উৎপাদন ব্যয় সরাসরি উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লেও পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা দিতে পারে। কারণ অনেক ক্ষেত্রে পরিবহন বা লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতার কারণে কারখানার সম্পদ ও সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে শ্রমিক ও কর্মীদের একটি অংশকে কাজের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা কার্যক্রমের দক্ষতা কমিয়ে দিচ্ছে।’
আরও পড়ুন
জ্বালানি তেলের যথাযথ সরবরাহে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন
জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ
এলপিজির সংকট নেই, দাম মনিটরে ডিসিদের চিঠি দিচ্ছে বিইআরসি
চট্টগ্রামে জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে ২৭ হাজার টন ডিজেল
কামরুজ্জামান কামাল আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। উৎপাদন ও ডেলিভারির সময়সূচি বিঘ্নিত হলে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, সময়ের অপচয় এবং ব্যবস্থাপনাগত চাপ তৈরি হয়। ফলে শেষ পর্যন্ত পণ্য উৎপাদন ও বাজারে সরবরাহ-উভয় ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, তেল সংকট শুধু একটি জ্বালানি ঘাটতির বিষয় নয়; এটি পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকারিতা প্রভাবিত করছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় এ ধরনের বিঘ্ন কেবল সময় নষ্ট করে না, বরং ধীরে ধীরে উৎপাদন ও বিতরণ ব্যয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকায় অনেক অপেক্ষার পর পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি, ফাইল ছবি: জাগো নিউজ
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জাগো নিউজকে বলেন, চলমান তেল সংকট দেশের গার্মেন্টস শিল্পের কার্যক্রমে স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। অনেক কারখানা মালিক জানিয়েছেন, জেনারেটর পরিচালনা এবং পণ্য পরিবহনের জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন, তা সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে—কোথাও উৎপাদন ধীরগতিতে চলছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
‘জ্বালানি ঘাটতির কারণে শুধু উৎপাদনই নয়, পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিয়মিতভাবে কাজে নিয়োজিত করা যাচ্ছে না। কারণ উৎপাদন লাইন স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত তেল না থাকায় প্রস্তুত পণ্য নির্ধারিত সময়ে বাজার বা গন্তব্যে পাঠানোও কঠিন হয়ে পড়ছে।’
আরও পড়ুন
সমুদ্রপথে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার করেছে নৌবাহিনী
ডিজেল সংকটে উত্তরাঞ্চলের চাষিরা, বোরো চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কা
যাত্রীবাহী লঞ্চে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ চান মালিকরা, নৌমন্ত্রীকে চিঠি
জ্বালানি তেল সরবরাহে ছুটির দিনও খোলা থাকবে ডিপো
এ পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিল্প খাত—বিশেষ করে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের জন্য জ্বালানি তেলের বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত ও নিয়মিত সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে উৎপাদন এবং বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
বিকেএমইএর সভাপতির মতে, গার্মেন্টস শিল্প দেশের অর্থনীতি, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই এ খাতের কার্যক্রম সচল রাখা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষক, জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কারখানা শ্রমিকরা পাঁচ থেকে ছয় দিনের ছুটিতে চলে যাবেন। ১৭ মার্চ থেকে এ সমস্যাটা চলে যাবে। ইন্ডাস্ট্রি যেন তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করতে পারে সেজন্য অবশ্যই চাহিদা মতো ফুয়েল সাপ্লাই দিতে হবে। কারখানা মালিকরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। কারখানায় যদি কাজ করতে না পারে তাহলে শ্রমিকদের বেতন দেবে কীভাবে? এজন্য অবশ্যই এখাতে নজর দেওয়া উচিত।
অধ্যাপক ইজাজ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ডিজেলে টোটাল যে কনজাম্পশন তাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল খুবই কম। এটা সরকারের মানসিকতা যে, আমি দিচ্ছি না দেব না। তাদের চাহিদা তো কম, তাহলে দেবে না কেন? এটার কারণে বিরাট ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
জ্বালানি তেলের অপেক্ষায় চালকেরা, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি
এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমি দেশের নীতি নির্ধারকদের একটি কথা বোঝাবার চেষ্টা করছি, আমাদের দেশে ডিজেল কনজাম্পশন এক্সট্রিমলি হাই। এখন একটা ফুয়েলের ওপরে থাকা উচিত নয়। আমাদের অন্য ফুয়েলে শিফট করা উচিত। আমরা করেছি, কিছুটা সিএনজিতে গেছে। এটি আরও করা উচিত।’
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, রপ্তানি বাড়ায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। জ্বালানি সংকটের কারণে যদি শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়, তাহলে উৎপাদন কমে যাবে, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে এবং রপ্তানি আয়ও কমে যেতে পারে। ফলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শিল্প খাতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে সরকারকে জ্বালানি সরবরাহে শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
নারায়ণগঞ্জের একটি কারখানায় কাজ করছেন শ্রমিকেরা, ফাইল ছবি
চাহিদা ব্যবস্থাপনা জরুরি
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি সংকটের সময় শুধু সরবরাহ বাড়ানো নয়, চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, অ-জরুরি খাতে জ্বালানি ব্যবহারে সাময়িক সীমা আরোপ করা যেতে পারে, যাতে শিল্প উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, শিল্প উৎপাদন থেমে গেলে অর্থনীতির ওপর বহুমাত্রিক চাপ তৈরি হয়। এতে কর্মসংস্থান কমে, রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বাজারে পণ্যের দাম বাড়ে। তাই শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও জরুরি। বন্দর, সংরক্ষণাগার এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়ালো
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালয়েশিয়ার আগাম প্রস্তুতি
ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫০০০ টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে
দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করা ছাড়া স্থায়ী সমাধান নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি দক্ষ প্রযুক্তি শিল্প খাতে প্রসার ঘটানো জরুরি।
শিল্পের মালিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের পরিকল্পনা একসঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতি ও বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
আইএইচও/এমএমএআর