ধর্ষণের মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৬:২০ পিএম, ১২ জুন ২০২১

লক্ষ্মীপুরে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী নারীকে (২৮) হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১২ জুন) দুপুরে ওই নারী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন। মামলায় গ্রেফতার মাদরাসার পরিচালক শাহ মো. মনির হোসেন জেলা কারাগারে রয়েছেন।

অভিযুক্ত মনির সদর উপজেলার যাদৈয়া এলাকার মাওলানা আহম্মদ উল্যাহ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার পরিচালক।

মামলা সূত্র জানায়, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ওই নারী বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। তার দ্বিতীয় স্বামী থাকলেও কোনো বরণ-পোষণ দিচ্ছেন না। মেয়েটিও তার আগের সংসারের। এ জন্য মেয়েটিকে এতিমখানায় ভর্তি করাতে ৮ জুন তিনি মাদরাসার পরিচালক মনির হোসেনের কাছে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন মনির হোসেন ছাড়া অন্য কেউ নেই। পরে তিনি ওই নারীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। মেয়েকে মাদরাসায় ভর্তি করার কথা বলার একপর্যায়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন মনির। পরে ওই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় ৯ জুন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মনিরের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই নারীকে সদর হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষাও করানো হয়েছে।

এদিকে মামলাটি তুলে নিতে আসামি পক্ষের লোকজন বিভিন্নভাবে ওই নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত জহির পাটওয়ারী ও ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন ওই নারী।

অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জহির পাটওয়ারী বলেন, পূর্ব থেকে কোনো মেয়েই আমাদের মাদরাসায় ভর্তি নেই। এখানে সবাই ছাত্র। কিন্তু উনি কেন তার মেয়েকে ভর্তি করানোর জন্য এখানে আসবে। ঘটনাটি রহস্যজনক। আমি ওই নারীকে চিনি না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা বলেন, মামলার পরই মাদরাসা থেকে মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। একইদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। হুমকির ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কাজল কায়েস/আরএইচ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]