১৭ বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের এক কমিটি

আবুল হাসনাত মো. রাফি আবুল হাসনাত মো. রাফি , ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে
প্রকাশিত: ০৭:২৪ পিএম, ১৩ জুন ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল তিন বছরের জন্য। ১৭ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি। অথচ এরই মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের ৪টি কমিটি পরিবর্তন হয়েছে। এতে করে অনেক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এখনো জেলা যুবলীগে পদ পাননি। এই নিয়ে ক্ষুব্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের পর অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সেই কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া জেলা যুবলীগের মেয়াদ ১২ বছর হওয়ার পর কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান। এরপর সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

যদিও গত ১০ জুন জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়। কিন্তু সভার আগের দিন মহামারির কারণে তা স্থগিত করা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনার দোহাই দিয়ে এবারও কালক্ষেপণ করতে যুবলীগের বর্ধিত সভা স্থগিত করা হয়েছে। এই খবরে আমরা ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা ‘সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম’ গঠন করেছি। যদি যুবলীগের কমিটি গঠন না করা হয়, তাহলে আমরা দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করব। আমাদের দাবি এমপি মহোদয়কে জানাব। সাবেক ছাত্র নেতাদের ছাড়া কমিটি ঘোষণা করা হলে আমরা তা মেনে নেব না।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাসান সারোয়ার জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি যে ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলাম তা ভেঙে দেয়া হয় ২০১১ সালে। এরপর যুবলীগের সম্মেলন আর হয়নি। গত ১০ বছর যাবত আমি পদ বঞ্চিত। আমরা চাই জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হোক। এতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হোক। যারা দল বিক্রি করে খায়, পদ বিক্রি করে খায়, এমন বিতর্কিত কমিটি আমরা চাই না।’

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবলীগের বর্তমান কমিটি উপজেলা কমিটি গঠনে ব্যর্থ বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সদর, নবীনগর, কসবা, বাঞ্ছারামপুর ও নাসিরনগর উপজেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই।

২০১৪ ও ১৫ সালে এসব ইউনিটের সম্মেলন হয়েছিল। সরাইল ও নাসিরনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন যাবত যুবলীগের কোনো কমিটি নেই। আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের কমিটি গঠন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে জেলা যুবলীগের কমিটির বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ২২ জুলাই আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাইফুর রহমান মনি ও আতাউর রহমান কবীরের নেতৃত্বাধীন বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে জেলা যুবলীগ।

এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন ও মো. শাহীন আলম বকশীকে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই কমিটি দেয়া হয় বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায় জেলা যুবলীগ। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার আগেই একইদিন রাতে আবার আরেক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সালাউদ্দিন-বকশীর কমিটি বিলুপ্ত করে আগের আহ্বায়ক কমিটি পুনর্বহাল করেন জেলা যুবলীগ নেতারা। এক্ষেত্রেও তারা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন এবং ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কমিটি দেয়ার জন্য ক্ষমা চান।

দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার বিষয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস জাগো নিউজকে বলেন, ‘২০১৪ সালে সম্মেলনের জন্য আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয়কে নিয়ে আমি নিজে গিয়েছিলাম যুবলীগের চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে। তারপর সম্মেলনের তারিখও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সম্মেলন আর হয়নি। যে সকল কমিটি আমরা দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল জাগো নিউজকে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবলীগের কমিটির বিষয়ে একটি বর্ধিত সভার আহ্বান করা হয়েছিল। লকডাউনের কারণে সভাটি স্থগিত করা হয়। আমরা বর্ধিত সভা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যুবলীগের সার্বিক বিষয় জেনে ও বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেব। ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলাসহ যেখানে যেখানে কমিটি নেই সেগুলো গঠন করতে সম্মেলনের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেব।’

জেডএইচ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]