কক্সবাজারে ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে নারীসহ ৩ খুন
মাত্র ২০ ঘণ্টার ব্যবধানে কক্সবাজারে পৃথক ঘটনায় তিনজন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ও শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে জমি নিয়ে বিরোধে কক্সবাজার সদরে দুই জন খুন হন।
আর শুক্রবার (২৫ জুন) সকালে পেকুয়ায় শ্বাসরোধে এক গৃহবধূকে খুনের ঘটনা ঘটে। স্ত্রী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে জমির বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ স্বজনদের ছুরিকাঘাতে নুরুল হক নামে একজন খুন হন। শুক্রবার জুমার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে নেজাম উদ্দিনের অবস্থায় আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা।
একই দিন পেকুয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত ওই নারীর নাম মর্জিনা আক্তার (২০)। শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, যৌতুকের জন্য এই খুনের ঘটনা ঘটে।।
হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ ওই এলাকার দিদারুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় নিহতের মর্জিনা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরে অভিযুক্ত স্বামী দিদারুলকে গ্রেফতার ও মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অপর দিকে, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সেকান্দার আলী (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় পিএমখালীর চেরাংঘর এলাকায় এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুটি হত্যাকাণ্ড জমির সংক্রান্ত বিরোধের জেরে। আর গৃহবধূ হত্যার বিষয়টি পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে বলে জানা গেছে। জমি সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের ধরতে চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশে। এর মধ্যে গৃহবধূকে হত্যাকারী স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
এসপি বলেন, ‘ঘটনাগুলো আকস্মিকভাবে ঘটেছে। আসলে মানুষের সহনশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস-শ্রদ্ধাবোধ কমে যাওয়ায় কথায় কথায় পরস্পর খুনে জড়িয়ে যাচ্ছে।’
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘খুনের ধরণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখবেন, এখানে কোনো আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নেই। অথবা এগুলো কোনো অজ্ঞাত খুনও নয়। নিজেদের মধ্যে অসহনশীল মনোভাব থেকে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে।’
এমআরআর