কমলনগরে পিআইওর ‘ঘুষের’ ১৬ লাখ টাকা উধাও, ৪ কর্মচারী থানায়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৮:১৯ এএম, ২৯ জুন ২০২১

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেনের কার্যালয় থেকে ১৬ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুল বাকেরসহ ৪ কর্মচারীকে থানায় আটকে রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত সোয়া ১২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন।

রাতে আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানিয়েছেন, বিকেলে পিআইও নিজেই তাদের বাসায় গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালায়। এসময় পিআইও বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছেন।

আটক অন্যদের মধ্যে কার্যালয়ে কর্মরত মেহেদী হাসানসহ আরও তিনজন রয়েছেন।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ঠিকাদারের অভিযোগ, পিআইও রিয়াদ প্রত্যেকটি কাজেই ঘুষ নেয়। ঘুষ ছাড়া তিনি কোনো ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। সম্প্রতি কয়েকটি কাজের বিলের চেকে সই করার জন্য তাদের কাছ থেকে তিনি ১-৩ লাখ টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন।

সবশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত সাড়ে ১২টায়ও পিআইও রিয়াদ ও ওসি মোসলেহ উদ্দিন আটক কর্মচারীদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এছাড়া উপজেলা কার্যালয়ের কয়েকজনের ভাষ্যমতে, পিআইওর কার্যালয়ে নগদ টাকা থাকার কথা নয়। তিনি ঠিকাদারদের টাকা চেকের মাধ্যমে দেবেন। টেন্ডারের পে-অর্ডারও চেকের মাধ্যমে। তাহলে তার কার্যালয়ে ১৬ লাখ টাকা কোথায় থেকে আসলো? আর টাকাগুলোও কিসের? যার জন্য এখনো তিনি পরিষ্কারভাবে কোনো অভিযোগ করতে পারছেন না। উল্টো চারজন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, জুন ক্লোজিং উপলক্ষে পিআইও তাদের কাছ থেকে কমিশন নিয়েছেন। তাদেরকে বাধ্য করা হয়েছে। ঘুষের এ ১৬ লাখ টাকা নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের বিল দেয়ার কথা। দুদকের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

জানা গেছে, রিয়াদ হোসেন রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কমলনগর উপজেলার শূন্যপদে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

বক্তব্য জানতে পিআইও রিয়াদ হোসেনের দুইটি মুঠোফোনে রাতে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, থানায় চারজনকে ডাকা হয়েছে। তবে পিআইও এখনো কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ দেননি। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আমি টাকার বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, চারজনকে থানায় ডাকার কথা আমি শুনেছি। তবে কি কারণে বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে পিআইও'র সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো।

কাজল কায়েস/আরএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।