স্ত্রী অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামীকে থানায় দেয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত: ০৭:১৩ পিএম, ২৯ জুন ২০২১

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে থানায় আটকে রাখার অভিযোগ করেছেন এক নারী। লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে জেলা শহরে একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ আনেন ওই নারী।

পুলিশ বলছে, থানা থেকে ওই নারীর স্বামীসহ চারজনকে পিআইও ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। তবে ওই নারীর দাবি, তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযুক্ত রিয়াদ হোসেন রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। তিনি কমলনগর উপজেলার শূন্যপদে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী কমলনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। কার্যালয় থেকে ১৬ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ এনে পিআইও রিয়াদ ওই চারজনকে সোমবার (২৮ জুন) রাতে থানায় দেন। থানা পুলিশ বলছে, এখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেননি পিআইও।

সংবাদ সম্মেলনে ওই নারী লিখিত বক্তব্যে জানান, পিআইও রিয়াদ কমলনগরে দায়িত্ব পাওয়ার পর একদিন স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে তিনি কার্যালয়ে যান। কার্যালয়ের পেছনেই সরকারি কোয়ার্টারে তারা থাকেন। ওইদিন দেখার পর থেকেই পিআইও বিভিন্নভাবে তাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ায় তার স্বামীকে সদর উপজেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। ১১ মাস পর ফের তার স্বামী কমলনগরে যোগদান করেন। কিন্তু পিআইও কাজ বুঝিয়ে দেননি। সোমবার রাতে ১৬ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে পিআইও রিয়াদ তার স্বামীসহ চারজনকে পুলিশের সহযোগিতায় থানায় আটকে রাখেন। এর আগে সন্ধ্যায় বাসায় এসে পিআইও নিজেই আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে রিয়াদ তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মিথ্যা অভিযোগ এনে তার স্বামীকে পিআইও থানায় আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

উপজেলা কার্যালয়ের কয়েকজনের ভাষ্যমতে, পিআইওর কার্যালয়ে নগদ টাকা থাকার কথা নয়। তিনি ঠিকাদারদের টাকা চেকের মাধ্যমে দেবেন। টেন্ডারের পে-অর্ডারও চেকের মাধ্যমে। এজন্য এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ করতে পারছেন না পিআইও। উল্টো চারজন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘পিআইও নিজেই সোমবার রাতে তার চার কর্মচারীকে থানায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার দুপুরে পিআইও নিজেই আবার তাদেরকে নিয়ে গেছেন। কার্যালয় থেকে কিছু টাকা চুরির হওয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনি কর্মচারীদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে কত টাকা তা জানাননি। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও করেননি।’

তবে ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী সারারাত থানায় ছিলেন। তবে এখন কোথায় আছেন তিনি জানেন না। তার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

অভিযুক্ত পিআইও রিয়াদ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরে কল ও মেসেজ দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাসেল ইকবাল বলেন, ‘অফিসিয়ালভাবে ঘটনাটি কেউ আমাকে জানায়নি। তবে আমি অন্য মাধ্যমে শুনেছি।’

এ ব্যাপারে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি পিআইও কার্যালয়ের নিজস্ব ব্যাপার। শুনেছি চারজনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তবে কী কারণে তা আমি বিস্তারিত জানি না। পিআইও আমাকে এ ব্যাপারে কিছু জানাননি।’

কাজল কায়েস/এসআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।