ফের পুঁতে ফেলা হলো বালিয়াড়িতে ভেসে ওঠা তিমির কঙ্কাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:৩০ এএম, ৩০ জুন ২০২১

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি সৈকতের বালুচরে পুঁতে রাখা তিমির কঙ্কালগুলো গত দুদিন আগে হঠাৎ ভেসে উঠে। আঁচড়ে পড়া ঢেউয়ের তীব্রতায় চাপা বালু সরে গিয়ে এসব কঙ্কাল দৃশ্যমান হয়ে চরম দুর্গন্ধ ছড়ায়।

রামু উপজেলা প্রশাসন ও বনবিভাগ সোমবার (২৮ জুন) থেকে শুরু করে মঙ্গলবার (২৯ জুন) বিকেল পর্যন্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে ভেসে ওঠা কঙ্কালগুলো আবারো পুঁতে ফেলে।

timi

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা। তিনি বলেন, ‘রোববার (২৭ জুন) দুপুরের জোয়ার শেষে ভাটার টান পড়ার পর সৈকতের হিমছড়ির দরিয়ানগর এলাকায় তিমির কঙ্কালের কয়েকটি বিচ্ছিন্ন অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার সকালে রোদ লাগার পর তা থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকেই রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (দক্ষিণ) হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে তা সরানোর প্রচেষ্টা চলে। পরে মঙ্গলবার বেলা ৩টায় কঙ্কালগুলো পুঁতে ফেলা সম্ভব হয়।

রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা আরও জানান, ঘটনাস্থলে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ওয়াইল্ড লাইফের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আসেন। কঙ্কালগুলো পর্যবেক্ষণ করে তারা জানান, এগুলো এখনো সংরক্ষণ উপযোগী হয়নি। আরও ছয়-সাত মাস মাটির নিচে থাকলে সমস্ত মাংস নিঃশেষ হলে তবেই হাড়গুলো সংরক্ষণ উপযোগী হবে।’

timi

উল্লেখ্য, গত ৯ ও ১০ এপ্রিল হিমছড়ি সৈকতে ভেসে এসেছিল প্রায় ২৫ ও ২০ টন ওজনের দুটি মৃত অর্ধগলিত তিমি। সেগুলো বালুচরে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। মাংস পচে মাটির সঙ্গে মিশে গেলে তিমির কঙ্কালগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তিমির কঙ্কালগুলো ভেসে উঠে বালিয়াড়িতে।

দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা ও পরিবেশবাদী সংগঠক আহমদ গিয়াস বলেন, ‘রোববার দুপুরে জোয়ারের ধাক্কায় দরিয়ানগর সৈকতে কঙ্কালের অংশটি ভেসে ওঠে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, জোয়ারের পানিতে তা ভেসে এসেছে। পরে দেখা গেছে, সেটি ১০ এপ্রিল বালুচরে পুঁতে রাখা তিমির মেরুদণ্ডের অংশ। বিকেলে দরিয়ানগর সৈকতের উত্তর দিকে হিমছড়ি এলাকার কয়েকটি স্থানে কঙ্কালের আরও কয়েকটি টুকরা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এগুলোও পুঁতে ফেলা তিমির কঙ্কালের অংশ। এগুলো সংগ্রহ করে সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও অনুসন্ধিৎসু পর্যটকদের জন্য সংরক্ষণ করা উত্তম হবে।’

timi

সমুদ্র বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদীরা ধারণা করেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জাহাজের ধাক্কায় অথবা প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে এসব তিমির মৃত্যু হচ্ছে। বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ে প্রকৃতির জন্য এসব তিমি রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।