থানার পাশেই বসল হাট, লকডাউন উপেক্ষা করে জনসমাগম
দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু লকডাউনের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে পশুর হাটে হয়েছে ব্যাপক জনসমাগম।
শুক্রবার (২ জুলাই) সিরাজগঞ্জের বৃহৎ এই হাটে হাজারো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। এ সময় হাটে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বালাই ছিল না। অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। বিধি ভঙ্গ করেই অবাধ বিচরণ ছিল মানুষের।
জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে এনায়েতপুরে কাপড়ের হাট হিসেবে চারদিন ও সপ্তাহের মূল হাট শুক্রবার বসে। এদিন গরু-ছাগলের পাশাপাশি হাটে খাদ্যপণ্য, ও পোশাকও বেচাকেনা হয়। কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার বিধিনিষেধ অমান্য করে বসেছিল বিশাল এই হাট।
এনায়েতপুরে থানার কাছেই হাটটি বসলে পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে ম্যানেজ করে হাটটি বসিয়েছেন ইজারদার।
হাটে দেখা যায়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানে এসেছে মানুষ। গাদাগাদি করেই অবস্থান ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার। অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিল না মাস্ক। একই সঙ্গে প্রচণ্ড ভিড় ছিল তরকারি পট্টি, মাছ-মাংস, চাল, ডাল, পোশাক, সুতা ও অন্যান্য পট্টিতে। দিনভর ছিল হাটে আসা ভ্যান, ট্রাক, টেম্পো ও নসিমনের যানজট।

শাহজাদপুরের পাচিল থেকে গরু নিয়ে আসা রইজ, হোসেন, বেলকুচির দৌলতপুরের আবুল হোসেন ও স্থল চরের ইদ্রিস আলী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম লকডাউনের কারণে হাট বসবে না। তবে বৃহস্পতিবার গরু ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে থানাকে ম্যানেজ করে হাট বসানো হবে। তাই হাটে এসেছি। দেখলাম আসলেই কোনো সমস্যা নেই। পুলিশও কিছু বলেনি। আমাদের মত আরও অনেকে এসেছে। তবে বিক্রি ছিল কম।’
বেতিল গ্রামের আসাদুল ইসলাম, এনায়েতপুরের সোহরাব আলী, খোকশাবাড়ি গ্রামের ইচাহাক হোসেন বলেন, ‘হাট বসবে না ভেবে বাড়িতে ছিলাম। কিন্তু বেলা ১১টার দিকে বৃষ্টি কমলে হাটে গিয়ে দেখি মানুষের ব্যাপক সমাগম। প্রায় ২০ হাজারের মত মানুষ হবে। তাই হাটে গিয়ে বাজার-সদাই করেছি।’
বিষয়টি নিয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজাদার ফজলু ব্যাপারীর মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, হাটে তেমন জনসমাগম নেই। চরের মানুষ না জেনে গরু নিয়ে আসতে পারে।
বিধি ভঙ্গ করে মানুষের সমাগমের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, ‘সবাইকে সচেতন করতে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে কেন এমন হলো আমি খবর নিচ্ছি।’
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/জেডএইচ/এএসএম