কুমিল্লায় কারাবন্দি ভারতীয় নাগরিককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুমিল্লা
প্রকাশিত: ০৭:১৬ পিএম, ০৩ জুলাই ২০২১

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে শাহজাহান বিলাস নামে এক বন্দিকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ মিনিট চার সেকেন্ডের নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, এক বন্দিকে পিছমোড়া করে বেঁধে পেটানো হচ্ছে। এ সময় তাকে ঘিরে রয়েছেন কয়েকজন কারারক্ষী।

এ ঘটনায় তিনজনকে বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। নির্যাতনে শিকার শাহজাহান বিলাস ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের দুর্গাপুর গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে। 

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, বন্দি শাহজাহান বিলাসের ডাকাতি ও হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় ৫৫ বছরের সাজা হয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করছেন। গত আট বছর ধরে তিনি কুমিল্লা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল তার ওয়ার্ডে তল্লাশি চালায় কারারক্ষীরা। এ সময় ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, এক পুড়িয়া গাঁজা, নগদ ৬০০ টাকাসহ কারারক্ষীদের হাতে তিনি ধরা পড়েন। পরে ১২ মে তাকে কারাভ্যন্তরে কেস টেবিলের সামনে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ।

এদিকে, বন্দি নির্যাতনের বিষয়টি তদন্তে গত ১ জুলাই কারা অধিদফতরের নির্দেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শফিকুল ইসলাম খানকে প্রধান করে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অপর ২ সদস্য হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসেন ও ফেনী জেলা কারাগারের জেলার শাহাদত হোসেন মিঠু। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নির্যাতনের ভিডিওটি ভাইরাল করার অভিযোগে ওইদিন কুমিল্লা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম, কারারক্ষী অনন্ত চন্দ্র দাস ও চয়ন পালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়ার পরদিন শুক্রবার (২ জুলাই) কারারক্ষী অনন্ত চন্দ্র দাস কারাগারের ব্যারাকে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। তবে বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

এ বিষয়ে শনিবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শাহজাহান আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্দি বিলাসের ওয়ার্ডে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, সিগারেট ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। পরে তাকে কেস টেবিলে ডেকে এনে মাদক ধ্বংস করা হয় এবং জব্দ করা টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়। এ নিয়ে সে ক্ষুব্ধ ছিল আমাদের ওপর। এজন্য তাকে কেস টেবিলে এনে লঘু শাস্তি দেয়া হয়। কিন্তু এ সময় তাকে মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিভাবে দুজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রেকর্ড করা হয়।’

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র সুপার শফিকুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘কারা অধিদফতরের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (৪ জুলাই) বিষয়টি তদন্ত করতে আমরা কুমিল্লা কারাগারে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।’

যাবেদ পাটোয়ারী/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]