বালুর বাঁধ কেটে দেয়ায় প্লাবিত ৩ জেলার ৮ উপজেলা
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইসগেট সংলগ্ন অস্থায়ী রিং বাঁধটি শনিবার রাতে কেটে দিয়েছে মৎস্য শিকারি ও নৌযান শ্রমিকরা। এতে তিন জেলার আট উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, পাবনা জেলার চাটমোহর, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, নাটোর জেলার গুরুদাসপুর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম উপজেলাসহ চলনবিল অঞ্চলের অন্তত আট উপজেলার ৪৫ হাজার হেক্টর জমি ওই বাঁধ ভাঙা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে ওই সব এলাকার জমিতে লাগানো নেপিয়ার, গামা ঘাস, বোনা আমন ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পোতাজিয়া, রাউতারা ও চরাচিথুলিয়া গ্রামের গোলাম আজম, নীরব হোসেন, সাকিব হোসেন, মুন্নাফ হোসেন, সৌরভ সরকার, সোহেল মোল্লা, আব্দুল আলীম, জোবায়ের হোসেন, তানভির রহমান ও আবু সাইফ বলেন, গত দুদিন থেকে বন্যার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ সুযোগে শনিবার ভোররাতে এসব এলাকার মৎস্য শিকারিরা অধিক পরিমাণে মাছ আহরণ ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌযানের মাঝিরা তাদের আয় উপার্জন বৃদ্ধি করতে প্রতি বছরের মতো এরারও ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অস্থায়ী এ বালুর বাঁধটি কেটে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এ বাঁধের পাইলিংয়ের বাঁশ ও বালুর বস্তা লুট হয়ে গেছে। অনেকে আবার বাঁধ এলাকায় এসব প্লাস্টিকের বস্তা ২০ টাকা পিস দরে বিক্রিও করেছে।
স্থানীয়রা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন্যার পানির চাপেই বাঁধটি ভেঙে গেছে। ফলে তারা বাঁশ ও বস্তা সংগ্রহ করে নিয়ে বাড়ির ভাঙনরোধে কাজে লাগাচ্ছেন। এ বছর বন্যা দেরিতে হওয়ায় ফসল আগেই উঠে গেছে। এর মধ্যে বাঁধের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইরি-বোরো ফসল রক্ষার্থে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নে ওই অস্থায়ী রিং বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় পাহারা সরিয়ে নেয়ায় স্থানীয়রা বাঁধটি কেটে দিয়েছে। আমরা ওখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যটি আর থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরাজগঞ্জ জেলায় ৮০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রয়েছে। সিরাজগঞ্জের কোথাও কোনো ঝুকিপূর্ণ বাঁধ নেই।’
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএইচআর/এমকেএইচ