‘বঙ্গভ্যাক্স’ টিকা পরীক্ষার জন্য বানর ধরতে গিয়ে জনরোষে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ১১:৪২ পিএম, ০৪ জুলাই ২০২১

দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড উৎপাদিত করোনা টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের জন্য বানর ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের জনরোষের শিকার হয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ কর্মী। স্থানীয়রা তাদের লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে।

ওই পাঁচ কর্মী হলেন- গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেডের মিডিয়া কনসালটেন্ট ও গ্লোবাল টেলিভিশনের অ্যাসাইনমেন্ট কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ক্যামেরাপারসন ফাহাদ আল কাদরিসহ এবং দুই গাড়িচালক।

গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের অভিযোগ, করোনা ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে প্রয়োগের আগে বানরের শরীরে প্রয়োগ করে কার্যকারিতা যাচাই প্রয়োজন। এজন্য তারা সরকারের অনুমতি নিয়ে সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী বাজার এলাকায় বানর ধরতে যান। ওই এলাকা থেকে ১০টি বানর ধরা হয়। কিন্তু স্থানীয় কিছু ব্যক্তি তাদের কাছে বানরের জন্য টাকা দাবি করে। টাকা না দেয়ায় তাদেরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং সঙ্গে থাকা টাকাপয়সাসহ বানরগুলোও ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এসব ঘটনার ফুটেজও আছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এ বিষয়ে বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে বাজারের ব্যবসায়ীসহ বরমী এলাকার স্থানীয় জনগণ বানর ধরার খবরটি আমাকে জানায়। পরে আমি সেখানে গিয়ে কয়েকটি বানরকে খাঁচায় আবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাই এবং সেগুলোকে ধরার কারণ জানতে চাই। পরে তারা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য বানর ধরার কথা জানান। এ কাজের জন্য বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকার কথাও জানান। কিন্তু বারণ সত্ত্বেও তারা বানর ধরায় স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়। তাদের শান্ত করে বানর ধরতে আসা লোকজনদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীপুর থানা পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়।’

jagonews

তবে বানরের জন্য টাকা দাবি ও লুটপাটের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘ঐতিহত্যগতভাবে বরমীতে বানরের বসবাস। শত অত্যাচার করে এ বানরগুলো। তারপরেও আমরা তাদের খাবার দেই, যত্ন করি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকার পরেও প্রত্যেক বাড়ি থেকে খাবার যোগাড় করে দেই। বানরগুলোই বরমী বাজারকে মাতিয়ে রেখেছে। বানরগুলোকে খাঁচায় বন্দি করে অজ্ঞান করায় তারা উত্তেজিত ও মারমুখী হয়ে উঠেছিল।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, ‘উত্তেজিত জনতার রোষানল থেকে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়। পরে বানর ধরার জন্য তাদের সঙ্গে থাকা মন্ত্রণালয় ও বনবিভাগের অনাপত্তিপত্র যাচাই-বাছাই করে তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।’

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান বলেন, ‘গ্লোব বায়েটেক লিমিটেডের কোভিড-১৯ টিকা বঙ্গভ্যাক্স মানবদেহে প্রয়োগের আগে বানরের দেহে পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়। এজন্য গত ২৬ জুন গ্লোব বায়েটেক লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে তাদের ৫৬টি বানর চেয়ে আবেদন করেন।’

‘পরদিন প্রধান বনসংরক্ষক বরাবর সংরক্ষিত বানর ধরা ও ব্যবহারের জন্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দীপক কুমার চক্রবর্তীর সই করা একটি পত্র পাঠানো হয়। পরে প্রধান সংরক্ষক এ সংক্রান্ত একটি চিঠি আমাকেও দিয়েছেন। এর আগে তারা গিনিপিগ ও খরগোশেও এ টিকা প্রয়োগ করেছেন। তবে আরও নিশ্চিত হতে তাদের বানর প্রয়োজন। তারা গত ২৯ জুন থেকে তিন দিনে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সাফারি পার্ক থেকে ৩০টি বানর সংগ্রহ করেছেন। বাকি বানর ধরার জন্য রোববার সকালে স্থানীয় প্রশাসন ও বন কর্মকর্তাদের না জানিয়েই তারা শ্রীপুরের বরমী বাজারে গেলে জনরোষে পড়েন।’

মো. আমিনুল ইসলাম/এসএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।