সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে অগ্নিদগ্ধ তানজিনা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২১

জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে অগ্নিদগ্ধ তানজিনা আক্তার (১০)। বুধবার (৭ জুলাই) সকালে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যায় তানজিনা।

এর আগে চলতি বছরের ১৬ মে জাগো নিউজে ‘মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে অগ্নিদগ্ধ শিশু তানজিনা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দেখে জেলা প্রশাসক শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে ঢাকায় পাঠান। সেখানে তাকে দেখভালের দায়িত্ব নেয় ফরিদা মান্নান অ্যান্ড মুন ফাউন্ডেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

গত ৩ রমজান দুপুরে রান্না করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে যায় শিশু তানজিনা আক্তারের দেহের প্রায় অর্ধেক অংশ। দরিদ্র বাবা উপজেলা হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা ময়মনসিংহে রেফার্ড করলেও অর্থাভাবে নিতে পারেননি। দীর্ঘ এক মাস স্থানীয় কবিরাজি চিকিৎসাধীন থেকে মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল শিশুটি।

তানজিনা আক্তারের বাবা মইজ উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েটি পুড়ে যাওয়ার পর আমি বারহাট্টা হাসপাতালে নিয়ে গেছি। তারা মমিনসিং লইয়া যাইতে কইছিল। আমার কাছে ভাড়ার টাকা আছিন না। আমি বাড়িত নিয়ে আইচি। কবিরাজি ওষুধ দিতাছি। ভালা অয়না। শরীর পচে গন্ধ অইছিন। নিউজের পর মেয়ে আমার সুস্থ অইছে। ঘর বানাইয়া দিছে। আমি অনেক খুশি।’

jagonews24

শিশুটির প্রতিবেশী খোদেজা বেগম বলেন, ‘সাত মাস আগে অসুস্থ অইয়া তার মা মইরা গেছিন। মা মরার পরে ঘরের কাজ মেয়েটিই করতো। রোজার ৩ তারিখ রান্না করতে গিয়া শইল পুইয়া গেছিন। কবিরাজ আইয়া ধূপ আর তেল দিয়া যাইতো। ঘর গন্ধ অইয়া গেছিন। সারা রাইত চিল্লাইতো। শুইতে ঘুমাইতে পারতো না। অহন বালা অইছে। আল্লায় আপ্নেরার ভালা করুক।’

গত ১৮ মে আগুনে পোড়া ওই শিশুকে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর জেলা প্রশাসক তার জন্য কেবিনের ব্যবস্থা করেন। ভর্তি করার পর থেকে তার চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসায় তানজিনা ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করে। জেলা প্রশাসক নিয়মিত তানজিনার খোঁজখবর রাখতেন। কখন কী প্রয়োজন সবকিছুই দেখভাল করতেন জেলা প্রশাসক। ঢাকার ফরিদা মান্নান অ্যান্ড মুন ফাউন্ডেশন হাসপাতাল দেখভাল করত। গত দুই মাস এই অগ্নিদগ্ধ শরীর নিয়ে যুদ্ধ করে তানজিনা।

এদিকে জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফরিদা মান্নান অ্যান্ড মুন ফাউন্ডেশন তানজিনার জন্য একটি আধাপাকা ঘরের ব্যবস্থা করে। তানজিনা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রাসহ তানজিনার পরিবার জেলা প্রশাসকসহ গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর রহমান বলেন, ওই শিশুটির সংবাদটি প্রথমে জাগো নিউজের মাধ্যমে পেয়েছি। এরপর তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে তাকে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। আজ বাড়িতে ফিরিছে শুনে খুব ভালো লেগেছে।’

এইচ এম কামাল/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।