ভৈরবের শহর রক্ষা বাঁধ যেন ময়লার ভাগাড়

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ২৩ জুলাই ২০২১

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জিল্লুর রহমান শহর রক্ষা বাঁধ যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে দূষণের পাশাপাশি দুর্গন্ধে পথচারীদের নাকে রুমাল চেপে যাতায়াত করতে হয়। প্রতিদিন শহরের হাজার হাজার টন ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বাঁধ সংলগ্ন খালটি। শহরে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় অনেক বছর ধরে এখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান জীবিত থাকতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয় করে ভৈরব শহরকে ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য গড়ে তোলেন জিল্লুর রহমান শহর রক্ষা বাঁধ। সেটি ভৈরব বাজার দক্ষিণ ঋষিপট্টি এলাকার নদীর পাড়ের সঙ্গে উত্তর দিকের মনমরা রেলওয়ে সেতুর খাল পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। বাঁধকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছিল ৭০০ মিটারের একটি সড়ক। যার মাধ্যমে শহরে ভারি যানবাহন চলাচল করছে।

সড়কটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ জুন ভৈরব শহর রক্ষা বাঁধের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন।

এই সড়কটিতে পৌর এলাকাসহ উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এছাড়াও ভৈরব বাজারে মালামাল পরিবহন করতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। বাঁধটি নির্মাণের পর থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষ খালে শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলতে থাকে। খালের পশ্চিমাংশে সিমেন্টের তৈরি ব্লক দেয়া হয়েছে। কিন্তু ব্লকের ওপরেই ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি ভরাট করা হচ্ছে।

সরকারি জিল্লুর রহমান কলেজের অধ্যাপক মো. শাহেদ জানান, ভৈরবে প্রতিদিনই পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা থেকে কয়েকশত মানুষ বিভিন্ন কাজে আসেন। মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষা এই খালটিতে শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে দুর্গন্ধের কারণে মুখে রুমাল দিয়ে হাঁটতে হয়। ময়লা-আবর্জনা ফেলে খালটি ভরাট করা বন্ধ হোক। পাশাপাশি ফেলে দেয়া ময়লা-আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন খাল পুনঃখননের দাবি জানান তিনি।

jagonews24

ভৈরব চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর হচ্ছে ভৈরব বন্দর। এই বন্দরকে আধুনিকায়নসহ মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে শহর রক্ষা করা ও মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে জিল্লুর রহমান বাঁধ ও সড়কটি নির্মাণের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ বাঁধের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণসহ খালটি ভরাট করে ফেলছে। সাবেক পৌর মেয়র অ্যাড. আক্কাছকে এ বিষয়ে চেম্বারের পক্ষ থেকে অবগত করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। আমাদের দাবি- খালে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব পৌর মেয়র ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, পৌরসভার অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। ফলে নদীর পাড়ের এই খালটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। তবে একটি ডাম্পিং ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যেই অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। তার জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

এছাড়াও শহর রক্ষা বাঁধের সংস্কারসহ খালটি খনন করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নয় কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র ইফতেখার হোসেন।

এমএসএম/এআরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।