কুড়িগ্রামে বিধিনিষেধে দ্বিগুণ ভাড়ায় চলছে নৌকা
চলমান বিধিনিষেধ অমান্য করে কুড়িগ্রামের চিলমারীতে অনায়াসে চলছে নৌযান। তবে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। অতিরিক্ত যাত্রী বহনে নৌকায় বসতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। এতে উপেক্ষিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।
রোববার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরেজমিনে চিলমারী উপজেলার রমনা ঘাটে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
রমনা ঘাট থেকে রৌমারী ও রাজিবপুরে নৌকা চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং অনায়াসে রৌমারী ও রাজিবপুর থেকে চিলমারী রমনা ঘাটে ভিড়ছে নৌকা।
রৌমারী থেকে আসা নৌকার যাত্রী উত্তম সেন জানান, আগে ১০০ টাকা করে ভাড়া নিলেও এখন নদী পারে জন প্রতি ২০০ টাকা করে ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এতে করে তারা একই পরিবারের তিন জনের ৬০০ টাকা দিয়েছেন।

রাজিবপুর থেকে আসা নৌকার যাত্রী আমিনুল বলেন, ‘আমি আগে ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে নিয়মিত আসতাম। কিন্তু আজ আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছে। আমি একজন দিনমজুর মানুষ। ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে নদী পারাপারই আমার জন্য দুঃসাধ্য, এরমধ্যে ২০০ টাকা দিয়ে পারাপার আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এগুলো দেখার কেউ নেই।’
এ সময় আরও কয়েকজন যাত্রী জানান, রাজীবপুর ও রৌমারীর নির্ধারিত ভাড়া ৮০-১০০ টাকা হলেও নৌকার শ্রমিকরা ১৮০-২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নৌকা চালানোর বিষয়ে শ্রমিক হামিদুল বলেন, ‘এই নৌকার মালিক মহুবর। তার নির্দেশে নৌকা চলছে। লকডাউনের আগে রৌমারী ও রাজিবপুরের যাত্রীদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছিল। লকডাউনে যাত্রী কম হওয়ায় ২০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।’
নৌকার মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মোট ২৮টি নৌকা। এরমধ্যে দুটি নৌকা চলছে। লকডাউনে একদিকে যাত্রী সঙ্কট, অন্যদিকে প্রশাসনের বাধার মুখে যাত্রী মিলছে অল্প।’

বিধিনিষেধ নৌকা চলাচল ও বেশি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘লকডাউনে নৌকা চালাতে ইউএনও ও ওসি মৌখিকভাবে নিষেধ করেছেন। তবে তারা জরুরি পণ্যবাহী নৌকা ও রোগী বহনকারী নৌকা পারাপারের নির্দেশনা দিয়েছেন। যাত্রী সঙ্কটের কারণে আমরা প্রতি জন যাত্রীর কাছ থেকে ২০০ টাকা করে নিচ্ছি।’
নৌকা চালনার বিষয়ে ঘাটের ইজারাদার মাহতাব বলেন, ‘মিঠু নামের এক লোক ঘাট পরিচালনা করেন। তিনিই নৌকাগুলো চলাচলে তদারকি করছেন। লকডাউনের শুরু থেকেই এমনটি ঘটেছে।’
দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই ইউএনও ও ওসি নৌকা না চালানোর নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। আমরা মিঠুকে বাদ দিয়ে সেখানে অন্য লোক নিয়োগ দিচ্ছি। এরকম অনিয়ম আর হবে না।’
এ ব্যাপারে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সেখানে আমাদের একটি টিম তদারকি করছে। আমিও সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে আমি ও ইউএনও নৌকা চলাচলে নিষেধ করে এসেছি। তবুও তারা কেন মানছেন না সেটি আমার বোধগম্য নয়। যদি তাদের বিরুদ্ধে আমার কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ থাকতো তাহলে আমি অবশ্যই সেটি নিতাম।’

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘লকডাউন মানতে আমরা শুরু থেকেই ঘাটে গিয়ে তাদেরকে নির্দেশনা দিয়ে আসছি। আমরা নিজেরাও গিয়ে কিছু কিছু রোগীকে নৌকায় পারাপার হতে দেখেছি। আমরা নৌকা চালক ও মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছি যেন তারা পণ্যবাহী ও রোগী বহন ছাড়া নৌকা পারাপার না করে। তবুও হয়তোবা কিছু নৌকা নির্দেশনা উপেক্ষা করেই চলছে। তবে এটি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করি।’
দ্বিগুণ ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত ছাড়া নতুন করে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার নির্দেশনা দেয়নি। যদি কেউ বাড়তি নেয় তবে সেটি বিধি বহির্ভূত। আপনাদের কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে সেটি আমাদের দিলে ব্যবস্থা নেব।’
মো. মাসুদ রানা/এসজে/এমকেএইচ