উপজেলা ঘোষণায় আনন্দে ভাসছে ঈদগাঁওবাসী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৬:৫৭ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২১

কক্সবাজার জেলার নবম উপজেলা হিসেবে ‘ঈদগাঁও’কে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সোমবার (২৬ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৭তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সচিব ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে ঈদগাঁওকে উপজেলায় রূপান্তরের দাবি করে আসছিলেন এ অঞ্চলের অধিবাসীরা। দীর্ঘ ৫০ বছর পর রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদগাঁওবাসীর স্বপ্নপূরণ করেছেন।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি ঈদগাঁও থানা হিসেবে যাত্রার পাঁচ মাসের মাথায় উপজেলার ঘোষণা আসায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ঈদগাঁওর সর্বস্তরের মানুষ।

এদিকে, আমজনতার মাঝে উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হচ্ছে। একে অপরকে মিষ্টি মুখ করিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন অনেকে।

ঈদগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সচিব ও কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, ‘প্রাচীনকাল থেকে বৃহত্তর ঈদগাঁও বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে প্রসিদ্ধ। যুগে যুগে তার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু সদর উপজেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আরেকটি উপজেলার ওপর দিয়ে এ অঞ্চলের লাখো জনতাকে প্রশাসনিক সেবা পেতে কক্সবাজার যেতে হতো। এতে দুর্ভোগ বাড়ত।’

jagonews24

তিনি আরও বলেন, ‘তখন থেকেই বৃহত্তর ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়ন নিয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের দাবি ওঠে। কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি। আমি ২০০৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর এলাকায় এসে ঈদগাঁওকে স্বতন্ত্র উপজেলা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। তখনই কবি মুহম্মদ নুরুল হুদাকে (বর্তমানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক) সভাপতি ও আমি সদস্য সচিব হয়ে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের পর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নুরুল আজিমকে কো-অর্ডিনেটর করে প্রশাসনিক দফতরে যোগাযোগ শুরু করি।’

লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে আসলে একান্তভাবে ঈদগাঁও উপজেলা করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরি। ওনার পরামর্শে ২০২০ সালে এ ব্যাপারে বহুদূর এগিয়ে যায়। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলও উপজেলা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জন্য বিষয়টি সহজ হয়ে আসে ঈদগাঁওর কৃতি সন্তান হেলালউদ্দীন আহমদ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হয়ে দায়িত্ব পাওয়ার পর। আমাদের তাগাদায় তিনি প্রশাসনিক কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উপস্থাপনের পর অবশেষে স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাথায় ঈদগাঁও উপজেলা হিসেবে ঘোষণা পেয়েছে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, ‘প্রশাসনিক উপজেলার অভাবে ঈদগাঁওয়ের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে একপ্রকার বঞ্চিত ছিল। একটি সরকারি হাসপাতাল করা যায়নি। একটি ফায়ারসার্ভিস স্টেশন করা যায়নি। করা যায়নি একটি সরকারি কলেজ ও একটি স্কুল। দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজারে গিয়ে সেবা নিতে নানাভাবে হয়রানি শিকার হতে হয়েছে। উপজেলা ঘোষণায় ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে ঈদগাঁওয়ের বাসিন্দারা।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগে সদর উপজেলায় থাকা ঈদগাঁও, ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, জালালাবাদ ও পোকখালী ইউনিয়ন নিয়ে অনুমোদন পেয়েছে ঈদগাঁও উপজেলা। এ পাঁচ ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা প্রায় এক ৮১ হাজার। আর মোট সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারের মতো।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কক্সবাজার পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারকে নিয়ে আলাদা ভাবেন। পর্যটন রাজধানী হিসেবে কক্সবাজারকে জাতীয় অর্থনীতির সূতিকাগার হিসেবে গড়তে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গভীর সমুদ্র বন্দর, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, মেরিন ড্রাইভ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রেললাইনসহ নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ঈদগাঁওকে উপজেলা ঘোষণা করায় জেলাবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]