শরণখোলায় পানিবন্দি ৬০ হাজার মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৯:০৫ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২১

সুপার সাইক্লোন সিডর ও আইলাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত জনপদ বাগেরহাটের শরণখোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট এখন যেন এলাকাবাসীর জন্য ভোগান্তির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে টানা বৃষ্টিতে রোববার পর্যন্ত উপজেলার ৬০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ফসলের ক্ষেত, মাঠ, পুকুর, রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধে অপরিকল্পিত ও অপর্যাপ্ত স্লুইসগেটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উপকূল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের (সিআইপি) আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারে বাঁধ পুনঃনির্মাণের কাজ করছে চীনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মিত বাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইসগেট রাখা হয়নি। এমনকি যেসব স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়েছে তা অপরিকল্পিত ও আগের চেয়ে সরু। এ অবস্থায় বঙ্গোপসাগরে লগুচাপের প্রভাবে গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) থেকে টানা তিন দিনের প্রায় ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে শরণখোলা উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়ে ৮৬ হাজার ৫০০ মানুষ। কিন্তু স্লুইসগেটগুলো দিয়ে পর্যাপ্ত পানি নামতে না পারায় এখনো পানিবন্দি হয়ে রয়েছে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ।

এদিকে, গত পাঁচ দিনেও পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় রান্নাবান্নাসহ মানুষ দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। এছাড়া আমনের বীজতলা, রোপা আউশ এবং সবজিসহ অন্যান্য মৌসুমি ফসল শতভাগই পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভেসে গেছে কয়েক হাজার মাছের ঘেরসহ পুকুরের মাছ। সরকারি হিসাবে কৃষি ও মৎস্যখাতে ক্ষতির পরিমাণ ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো থেকে জানা গেছে। এছাড়া রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির হিসাব প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৌদ্ধ শরণখোলা পরিদর্শনে গেলে তার কাছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানিবন্দি শত শত মানুষ দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি জানান। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষকে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

jagonews24

একইদিন রাত ৮টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সঙ্কট নিরসনে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, চার ইউপি চেয়ারম্যান, সিআইপি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, অতিবৃষ্টিতে বর্তমানে শরণখোলায় প্রায় হাজার মানুষ এখনো পানিবন্দি। এ অবস্থা থেকে স্থায়ী সমাধানের জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে একটি সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। সুপারিশগুলো জেলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন থেকে সোমবার একনেকের সভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে একটি সুপারিশ পাঠানো হবে।

শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের স্লুইসগেটগুলো আগের তুলনায় অনেক ছোট এবং অপর্যাপ্ত হওয়ায় দ্রুত পানি নিষ্কাষিত হচ্ছে না। একটি লকগেট এবং কমপক্ষে আরও সাতটি বড় স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল হোসেন মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, সাউথখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হোসেন, খোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন, রায়েন্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ রশিদ আকন দাবি করেন, গত ২০ বছরেও শরণখোলাবাসী এমন জলাবদ্ধতা দেখেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অপরিকল্পিত স্লুইসগেটের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পরিকল্পিত এবং পর্যাপ্ত স্লুইসগেট নির্মাণ করা না হলে শরণখোলার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাবে।

এদিকে, এমন পরিস্থিতিতে আজ (২ আগস্ট) উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে এলাকাবাসী কয়েক জায়গায় বাঁধ কেটে দিয়ে পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা করেন।

শওকত আলী বাবু/এমআরআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]