কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে কাউন্সিলরের ছেলে খুন
কক্সবাজার শহরে মাদকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন সেজান নামের এক তরুণ।
সোমবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের বইল্ল্যা পাড়া অগ্মমেধা বৌদ্ধ বিহার কম্পাউডে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সেজান (২০) কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুর মোহাম্মদ মাঝুর ছেলে। তবে ফোনে যোগাযোগ করা হলে মাঝু নিহতকে নিজের ছেলে নয় বলে দাবি করেন। কিন্তু স্থানীয়দের মতে, নিহত সেজান কাউন্সিলর মাঝুর দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে।
এদিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সেজানের মরদেহ আনা হয়েছে এমন খবর পেয়ে সেখানে যান নুর মোহাম্মদ। সেখানে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, স্থানীয় ‘সন্ত্রাসী’ তাহের, রাজু, শাহীন, অভিসহ আরও কয়েকজন মিলে ক্যাং এলাকায় মাদকের বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন। একপর্যায়ে তাদের ভেতর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বাকিরা সেজানকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। ছুরির আঘাতে তার পেটের বেশ কিছু অংশ ক্ষত হয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তাকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে না এলেও খোরশেদ আলম নামে এক যুবক সেজানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সূত্র মতে, শুভ নামে এক যুবকের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ কিশোর গ্যাংটি অগ্মমেধা বৌদ্ধ বিহার এলাকায় নিয়মিত আড্ডা দিত। নিয়ন্ত্রণ করত মাদকসহ নানা অপরাধ।
নিহত সেজানের মা জানান, তিনি তার ছেলে সেজানকে নিয়ে শহরের জাদিরাম পাহাড় এলাকায় বাস করেন। সোমবার সকালে সেজানকে কয়েকজন কিশোর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এর আগের রাতে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার ছেলের তর্ক হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সেজানকে উদ্ধারকারী খোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার শহরের অগ্মমেধা বৌদ্ধ বিহার এলাকায় তারা গেম খেলার সময় এই খুনের ঘটনা দেখেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর উল গিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়েই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে, সেজানকে উদ্ধারকারী খোরশেদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এদিকে সেজানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
সায়ীদ আলমগীর/জেডএইচ/