নির্যাতনের কষ্ট ভুলে সেই ছেলেকে কারামুক্ত করলেন বাবা

লিপসন আহমেদ লিপসন আহমেদ , সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:৫৯ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২১

সুনামগঞ্জের ছাতকে নেশার টাকা না পেয়ে শিকলে বেঁধে মমস্বর আলীর (৭৫) নামের এক বৃদ্ধকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ছেলে সুহেল মিয়ার (৩২) বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে সেই ছেলেকে পুলিশে ধরিয়ে দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ। পরে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠান।

কিন্তু একমাত্র ছেলের কষ্ট সহ্য করতে পারছিলেন না বৃদ্ধ বাবা। নির্যাতনের সব কষ্ট ভুলে গিয়ে নিজেই আদালতে গিয়ে ছেলের জামিনের ব্যবস্থা করেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে গিয়ে ছেলেকে কারাগার থেকে মুক্ত করে আনেন। এ সময় ছেলেকে বুকে ঝড়িয়ে ধরেন মমস্বর আলী। তাৎক্ষণিক বাবার পা ধরে ক্ষমা চাইলেন ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, সুহেল মিয়া জেল থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেই তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমেদের বাড়ি যান। সেখানে গিয়ে কখনো নেশা করবেন না বলে শপথ করেন তিনি। একইসঙ্গে তার বৃদ্ধ বাবাকেও মারধর করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। চেয়ারম্যানও তাকে ক্ষমা করে দেন।

রোববার (২৯ আগস্ট) বৃদ্ধ বাবা মমস্বর আলীর (৭৫) বলেন, আমার একটি মাত্র ছেলে সন্তান। অনেক কষ্ট করে তাকে বড় করেছি। পৃথিবীতে আর কয়দিনই বা বাঁচব, তাই যে কটাদিন আছি ছেলেকে চোখের সামনে দেখতে চাই। আমি তার দেওয়া সব কষ্ট ভুলে গিয়ে তাকে জামিনে মুক্ত করেছি। সে আমাকে কথা দিয়েছে কখনও আর আমাকে কষ্ট দিবে না। এতেই আমি খুশি।

ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, নেশার টাকা না পেয়ে শিকলে বেঁধে মমস্বর আলীরকে (৭৫) নির্যাতন করছিল তার ছেলে সুহেল মিয়া। পরে আমি সেখানে তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয়ে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দিই। পরে ২০ দিনের মাথায় তার বাবা তাকে জামিনে মুক্ত করে আনেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, তার ছেলে আমার কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে যে, সে কখনও আর তার বাবাকে কষ্ট কিংবা নির্যাতন করবে না।

লিপসন আহমেদ/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]