ঠাকুরগাঁওয়ে বাড়ছে পুকুর খনন, কমছে কৃষিজমি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ পিএম, ২৯ আগস্ট ২০২১

সার, কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দামবৃদ্ধিসহ নানা কারণে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করে মাছচাষে ঝুঁকছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা। কৃষকরা বলছেন, ধান চাষ করে তারা আশানুরূপ লাভ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে মাছচাষে খরচ কম, লাভ বেশি। এজন্য তারা মাছচাষে ঝুঁকছেন। তবে অবাধে ফসলি জমিতে পুকুর খননের ফলে কৃষিজমি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে জেলা কৃষি বিভাগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলায়ই ফসলি জমিতে পুকুর খনন বেড়েছে। ফসলি জমিতে সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন দেখা গেছে সদর উপজেলার ভেলাজান, চিলারং ও জগন্নাথপুর এলাকায়। উপজেলাগুলোর মধ্যে বালিয়াডাঙ্গী এলাকার কালমেঘ, হরিণমারি, পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈলসহ সীমান্তঘেঁষা এলাকাগুলোতে পুকুর খনন চলছে। এ বিষয়ে জমির মালিকের ভাষ্য, ধানের চেয়ে পুকুরে মাছচাষে অধিক লাভ হওয়ায় তারা পুকুর খননের দিকে ঝুঁকছেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গাঙ্গর এলাকার কৃষক আব্দুল আওয়াল। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তিনি ফসলি জমিতে ধান ও সবজি উৎপাদন করে আসছিলেন। তার পাঁচ একর জমি রয়েছে। কিন্তু এবার ওই জমিনে পুকুর খনন করে মাছচাষ শুরু করেছেন। এ কৃষক বলেন, ফসল উৎপাদনে শ্রম ও কাঙ্ক্ষিত লাভ না হওয়ায় ঝামেলাবিহীন অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি এবার পুকুর খনন করে মাছচাষ শুরু করেছেন।

সদর উপজেলার ভেলাজান এলাকার মৎস্যচাষি আব্দুল গফুর বলেন, যেসব জমিতে আগে রবিশস্য আবাদ করতাম সে জমিতে এখন মাছচাষ করছি। তিনি বলেন, অল্প জায়গাতে ধানের লাভ হয় কম। আবার ধান উৎপাদন, মাড়াই খরচসহ শ্রমিকদের টাকা দিতে গিয়ে নিজের আর কিছুই থাকে না।

ওই এলাকার মৎস্যচাষি আব্দুল হাই, মানিক, জলিলসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করতে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়েই তারা মাছচাষে ঝুঁকেছেন।

এবার সাত একর জমিতে পুকুর খনন করে মাছচাষ করছেন মানিক মিঞা। তার মতে, মাছচাষে সামান্য খরচ হলেও লাভ হয় ধানের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। এবার খরচ বাদ দিয়ে ছয় লাখ টাকা লাভ আশা করছেন এই চাষি।

jagonews24

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্র বলছে, ২০০৭ জেলায় ফসলি জমির পরিমাণ ছিল এক লাখ ৫৫ হাজার ১১১ হেক্টর। বর্তমানে তা কমে (২০২১ সাল) দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৭০৩ হেক্টরে। গত ১০ বছরে ঠাকুরগাঁওয়ে মাছচাষে পুকুর খনন হয়েছে পাঁচ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে। তবে যে কেউ চাইলে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো.আবু হোসেন।

তিনি বলেন, কেউ যদি ফসলি জমিতে পুকুর খনন করতে চান তাহলে অবশ্যই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে করতে হবে। ফসলি জমিতে যেসব পুকুর খনন করা হয়েছে তা তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।

ঠাকুরগাঁও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালিদুজ্জামান বলেন, জেলায় প্রতিবছর পাঁচ শতাংশ হারে পুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবার সরকারি জলাশয়ে হরিপুর ও পীরগঞ্জে ১২টি পুকুর খনন করা হয়েছে।

এদিকে আবাদি জমি নষ্ট করে পুকুর খনন খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন ঠাকুরগাঁও পরিবেশবাদী সংগঠন সৃজনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে যত্রতত্র পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে।

তানভীর হাসান তানু/এসআর/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]