পাবনায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০২:৩৬ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

পাবনায় গণপূর্ত অফিসে ঠিকাদারদের অস্ত্রের মহড়ার তিন মাস পর এবার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আরেক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পাবনা সদর থানায় ওই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিত প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার। সোমবার (৬ সেপেপ্টম্বর) দুপুর ১২টার দিকে পাবনা গণপূর্ত ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে মারধরের এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিষয়টি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে এবং রাত ১০টার পর মীমাংসা না হওয়ায় গণমাধ্যমসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও গণপূর্ত অফিস সুত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঠিকাদার নূর কনস্ট্রাকশনের মালিক মোখলেসুর রহমান নয়ন (৪৫) নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমের কক্ষে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের সাথে ঠিকাদারী কাজ নিয়ে কথা বলতে আসেন। এসময় নির্বাহী প্রকৌশলী তার কক্ষে ছিলেন না। আব্দুস সাত্তার ঠিকাদার নয়নকে নির্ধারিত সময়ে সঠিকভাবে কাজ শেষ করার তাগিদ দিলে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে ঠিকাদার প্রকৌশলীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করেন। আব্দুস সাত্তারের চিৎকারে অফিসের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে করতে ঠিকাদার নয়ন অফিস থেকে বের হয়ে যান।

এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঠিকাদার নয়নের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তার। প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঠিকাদার নয়নকে তার অসমাপ্ত কিছু কাজ সঠিকভাবে শেষ করতে বলি। এসময় হঠাৎ তিনি (নয়ন) উত্তেজিত হয়ে গালাগাল শুরু করেন। আমি প্রতিবাদ করলে তিনি মারপিট শুরু করেন। ঘটনার আকস্মিকতায় আমি স্তম্ভিত হয়ে পড়ি। নিজ অফিসে এমন অপমানিত হবো কখনো কল্পনাও করিনি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

এদিকে প্রকৌশলীকে মারধরের এ ঘটনাটি সারাদিন মীমাংসার চেষ্টা চলে বলে জানা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত মীমাংসা না হওয়ায় রাতে মিডিয়াসহ সব মহলে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মাসুদ আলম জানান, ওই প্রকৌশলী থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগের আলোকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ঠিকাদারের হাতে প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পাবনা গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দেবাশীষ চন্দ্র সাহা বলেন, এর আগেও ঠিকাদাররা অস্ত্রের মহড়া দিয়ে গেছে। এগুলো বন্ধ হওয়া জরুরি।

পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিম বলেন, অনেক ঠিকাদারের সাথেই আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। তাই বলে মারধর করবে এটা আমরা প্রত্যাশা করি না। পাবনা গণপূর্ত বিভাগে আসলে ভালো কাজের পরিবেশ নেই। তাই গনপূর্ত বিভাগের পাবনা অফিসে কেউ পোস্টিং পেতে চান না।

তিনি আরও বলেন, আব্দুস সাত্তারকে মারপিটের কথা শুনেই আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ঠিকাদার মোখলেসুর আলম নয়নের মুঠোফোনে বারবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এছাড়া শহরের ছাতিয়ানি এলাকায় তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

চলতি বছরের ৬ জুন ঠিকাদারি কাজের অজুহাতে আওয়ামীলীগ নেতা এ আর খান মামুন ও যুবলীগ নেতা শেখ লালু তাদের বাহিনী নিয়ে অস্ত্রের মহড়া দেয়। ঘটনাটি বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। তিন মাসের মাথায় আবারও এ ধরনের ঘটনা ঘটলো।

আমিন ইসলাম জুয়েল/ইউএইচ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।