চামড়ার বদলে ‘মাংসে ভ্যাকসিন পুশ’, মারা গেলো খামারির ১৭ ছাগল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৬:৫৬ পিএম, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

বাগেরহাটের রামপালে অজ্ঞাত কারণে এক খামারির ১৭টি ছাগল মারা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত খামারির দাবি, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ভুলের কারণে এমনটি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চেয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের পেড়িখালী গ্রামের শেখ মাসুদ রানা পেশায় ব্যবসায়ী। সম্প্রতি তিনি তার নিজ বাড়িতে একটি ছাগলের খামার গড়ে তোলেন। গত ২৯ আগস্ট তিনি পশুপালনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার সম্পর্কে জানার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যান। সেখানে তিনি উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মমতাজুল হক সুজনের কাছে তার ছাগলের খামারের কথা জানিয়ে পরামর্শ চান। ৩১ আগস্ট ডা. মমতাজুল তার খামারে ছাগলগুলো দেখতে যান। দেখেশুনে ছাগলগুলোকে ভ্যাকসিন (কৃমি ও লিভার) দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তার কথামতো খামারি ভ্যাকসিন দিতে রাজি হলে ডা. মমতাজুল ভ্যাকসিনের একটি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। এ বাবদ তিনি খামারির কাছ থেকেও এক হাজার টাকা ফি হিসেবে নেন। পরে বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ডা. মমতাজুল তার অফিস থেকে ভ্যাকসিনসহ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পেড়িখালী ইউনিয়নের দায়িত্বরত প্রতিনিধি আলাউদ্দিন শেখকে খামারির বাড়িতে পাঠান।

আলাউদ্দিন শেখ খামারির ১৭টি ছাগলকে সেই ভ্যাকসিন পুশ করেন। কিন্তু ছাগল প্রতি দুই সিসি ওষুধ চামড়ায় পুশ করার কথা থাকলেও তিনি তা না করে মাংসের মধ্যে পুশ করেন। ভ্যাকসিন দেওয়ার পর ওইদিন সকাল ৯টার পর থেকে ছাগলগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। খিচুনি ও লাফালাফি করে পরবর্তীতে নিস্তেজ হয়ে ছাগলগুলো মারা যায়।

jagonews24

ওইদিন সকালে ও রাতে পাঁচটি, বৃহস্পতিবার সাতটি ও শুক্রবার দুটি ছাগল মারা যায়। এভাবে মঙ্গলবার পর্যন্ত তার খামারের ১৭টি ছাগল মারা গেছে। প্রথম দফায় পাঁচটি ছাগল মারা যাওয়ার পর খামারি মাসুদ ফের ডা. মমতাজুলকে খবর দিলে তিনি এসে বাকি অসুস্থ ছাগলের মধ্যে দুইটির অবস্থা খারাপ দেখে সেগুলোকে জবাই দিতে বলেন। তার সামনেই জবাই দেওয়ার পর সেখান থেকেও তিনি খাওয়ার কথা বলে এক কেজি মাংস নিয়ে যান। এরপর একের পর এক ছাগল মারা যাওয়ায় খামারি মাসুদ বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল হাসান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ডা. মমতাজুল হক সুজন বলেন, তার ভুল চিকিৎসায় মারা গেছে, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। তবে যে (আলাউদ্দিন শেখ) ভ্যাকসিন পুশ করেছে সে চামড়ায় না করে মাংসে করাতে এমনটা হতে পারে। আমি চামড়ায় পুশ করতে বলেছি, মাংসে নয়। তারপরও বিষয়টি দেখতে হবে কেন এমন হলো। ভ্যাকসিনের মেয়াদ ঠিক ছিল না কি-না এবং কী কারণে এমন হয়েছে তা উদঘাটন না করে বলা সম্ভব নয়।

পেড়িখালী ইউনিয়নের প্রতিনিধি আলাউদ্দিন শেখ বলেন, ইনজেকশন দিতে গেলে চামড়া ও মাংসে এদিক ওদিক হতে পারে। ওষুধে সমস্যা নাকি পুশে সমস্যা, ছাগলের অন্য কোনো রোগ ছিল কি-না তা পরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব না।

ভুল চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসা ভুল না সঠিক বুঝবো কিভাবে? মানুষের তো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধ দেওয়া হয়, আর পশুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দিতে হয়, দেখতে হয়। তিনি আরও বলেন, আমি পাঁচ বছর ধরে এই কাজ করি। আমার ভুল হওয়ার কথা না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল হাসান বলেন, এক খামারির অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করা হবে। তারপর কমিটির সিদ্ধান্ত মতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কবীর হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শওকত আলী বাবু/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]