হাত দিয়ে পাথর ভাঙে প্রতিবন্ধী শামীম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:২৭ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

পুরো নাম মো. শামীম হোসেন। বয়স ৩৫ বছর। জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। এক হাতের পাঞ্জা নেই । এই পাঞ্জাবিহীন হাতে ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে শামীমের। জন্ম থেকে এ হাত দিয়ে সে ভাঙতে পারে কঠিন কঠিন জিনিসপত্র। ইট-সিমেন্টের তৈরি যে কোনো কিছু। এমনকি পাথরও! যা অনেকটা বিস্ময়কর।

নিজ চোখে না দেখলে অনেকের কাছে অসত্য কিংবা গল্পের মতো মনে হবে বিষয়টি। তবে মানুষের কাছে গল্প, সত্য আর বিস্ময় মনে হলেও এটাই এখন শামীমের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। অনেকেই তার এ কাজ দেখে আনন্দ পায়। বিস্মিত হয়। মানুষকে আনন্দ দেয়ার বিনিময়ে খুশি হয়ে যে যা দেয় তাতেই চলে শামীমের পেট।

শামীম হোসেনের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকশায়। পিতার নাম মো. আব্দুল্লাহ। তবে তার দিন রাত কাটে ট্রেনে-স্টেশনে। স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা অথবা ট্রেন থেকে নামা যাত্রীদের একটু শারীরিক কসরত, আনন্দ-বিনোদনের খুশির পয়সায়ই চলে তার সংসার।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভাটিয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন থেকে দুপুরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী রেলওয়ে স্টেশনে নামে শামিম। একহাতে একটা কালো ব্যাগ। স্টেশনে হঠাৎ সে ইট-সিমেন্টের পিলার ভেঙে তার শক্তি ও শারীরিক কসরত দেখায়। এতে আস্তে আস্তে লোক জড়ো হয়। একপর্যায়ে সে রেল লাইনের পাটির উপর পাথর রেখে নোলা হাত দিয়ে তা ভেঙে দেখায়।

shamim1

সেখানে উপস্থিত বোয়ালমারী উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আমীর চারু বাবলু জাগো নিউজকে জানান, লোকজনের জটলা দেখে এগিয়ে দেখি এক যুবক রেললাইনের উপর পাথর রেখে নোলা হাত দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করছে। আমি প্রথম মনে করেছি হয়তো পাগল হবে। পরে নিজ চোখে দেখলাম আস্ত পাথর হাত দিয়ে ভেঙে ফেললো।

বোয়ালমারীর বিশিষ্ট নাট্য শিল্পী ও সাংবাদিক খান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন জানান, সত্যি তার এমন কাজ দেখে বিস্মিত হয়েছি। তার শারীরিক এ কসরত দেখে উপস্থিত অনেকেই সাধ্যমতো সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন।

রেল স্টেশন সংলগ্ন বাসিন্দা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমান মিজান জানান, দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে এ দৃশ্য দেখে বেশ বিস্মিত হয়েছি। নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতে পারতাম না। ওর হাতে যে এতো শক্তি যা এক ঐশ্বরিক শক্তি।

শামিম হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে বাবা-মা রয়েছে। হাতের পাঞ্জা জন্মগতভাবেই ছিল না। এ কারণে কেউ কাজে নেয় না। আবার ভিক্ষা করাও সম্ভব নয়। প্রথমে এ হাত দিয়ে কলাগাছ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শক্ত গাছ ভাঙা (ঘুষি) শুরু করি। এরপর ইট, বালু-সিমেন্টের পিলার-ওয়াল এরপর পাথর। এখন আমি পাথর তো স্বাভাবিক বিষয়। যতো শক্ত কিছু হোক নোলা হাত দিয়ে আঘাত করলেও ব্যাথা পাই না। আমার এটাই রোজগারের পথ। এ থেকে যা পাই তা দিয়েই নিজের পেট ও সংসার চলে।

এন কে বি নয়ন/এএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।