সৈকতে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার: পুলিশ হেফাজতে ৪ বন্ধু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৮:০৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিল সাত বন্ধুর একটি দল। প্রথমে উঠেছিলেন কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ড্রিম প্যালেস এবং পরে বিচ হলিডে নামের হোটেলে।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বিচ হলিডে থেকে একসঙ্গে বের হন তারা। তবে দুপুরে পাঁচজন হোটেলে ফিরে এলেও অন্য দুজন ছিলেন নিখোঁজ। এদের মধ্যে একজনকে ভাসন্ত অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে সৈকতের সি-গাল পয়েন্টে পাওয়া যায়। শনিবার অন্যজনকে পাওয়া যায় সৈকতের নাজিরারটেক-মহেশখালী চ্যানেলের মোহনায়।

এ ঘটনায় তাদের সঙ্গী চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনির উল গিয়াস।

সলিল সমাধি হওয়া দুজন হলেন- যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকার ইবনে মিজানের ছেলে মেহের ফারাবি অভ্র (২৪) ও একই এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে নাফিজ কৌশিক (২৫)।

এ ঘটনায় তাদের চার বন্ধু রোহান, মাসুদ, মুহিবুল ও ফারদিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। তাদের আরেক বন্ধু আলিফ (২৪) পলাতক। তিনি যশোরের নিজামপুর এলাকার মুবিন উদ্দিনের ছেলে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, তারা প্রথমে শহরের ড্রিম প্যালেসে ওঠে। সেখানে দুদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার বিচ হলিডে নামের আরেক হোটেলে ওঠে। এরপরই তাদের দুই বন্ধুর সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিচ হলিডে হোটেলের এক ব্যবস্থাপক বলেন, যশোরের সাত বন্ধু আমাদের হোটেলে বৃহস্পতিবার বুকিং নিলে ২০৭ ও ৪০৬ নাম্বার রুমে দেওয়া হয়। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। দুপুরের পর হোটেলে ফিরে আসে পাঁচজন। তারা তখন জানিয়েছিল তাদের দুই বন্ধু নিখোঁজ রয়েছে।

বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মধ্যে বিকেলে কৌশিকের মরদেহ পাওয়া যায়। শনিবার মিলেছে অভ্রর মরদেহ। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপে পাঁচজনের চারজনকে সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে একজন কৌশলে কোথায় যেন সটকে পড়েন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গিয়াস বলেন, সকালে একসঙ্গে বের হলেও দুপুরে দুজন নিখোঁজ বলে হোটেলে ফিরলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা না চাওয়ায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ দুটির সুরতহাল রিপোর্ট চেক করা হচ্ছে। তাই তাদের সঙ্গে আসা চার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আলিফ নামে তাদের আরেক বন্ধু পলাতক। পুলিশ তাকেও খুঁজছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।