৫৬ বছরেও কেউ চিনলো না ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র

এন কে বি নয়ন এন কে বি নয়ন ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন শুধু কাগজে-কলমে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানেন না স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিষয়ে।

ফরিদপুর জেলা কারাগারের ঠিক উল্টো পাশে অবস্থান বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির। জনবহুল এলাকাটি ব্রহ্মসমাজ রোড নামেও পরিচিত। ৫৬ বছর আগে ১৯৬৫ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষার্থীদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অনেকেই রাস্তা দিয়ে হাঁটা-চলার পথে পুরোনো সাইনবোর্ড চোখে দেখা ছাড়া কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত নন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আওতাধীন রয়েছে জেলার ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসা। সবমিলিয়ে ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এর আওতায়। প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৮৬ জন। তবে সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দুজন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে রয়েছেন একজন। এর পাশাপাশি একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন ফার্মাসিস্ট থাকলেও করোনাকালীন ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেশনে রয়েছেন তারা। এছাড়া একজন এমএলএস রয়েছেন।

Forid-(4).jpg

চলতি বছরের আগস্ট মাসের কার্যক্রম প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে চিকিৎসা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪৯ জন। সে হিসাবে গড়ে প্রতিদিন সেবা নেন ১৫ জন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ২৯টি কার্যক্রমের মধ্যে বেশিরভাগ কার্যক্রমই শূন্য।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানের একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়, তবে তা বেশ পুরোনো। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। স্টাফদের অনেকে উপস্থিত নেই।

ফরিদপুর শহরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী কমরেড আরমান জাগো নিউজকে বলেন, আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে আলহেনা ফরিদপুর পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। ছেলে আল আনাম একই স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। আমি একজন অভিভাবক হিসেবে ফরিদপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নাম কখনও শুনি নাই। এটা কোথায় অবস্থিত তাও জানি না।

ফরিদপুর জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ইসমাইল হোসেন বলে, শিক্ষক, সহপাঠী ও অভিভাবক কারো কাছ থেকেই এমন প্রতিষ্ঠানের কথা শুনিনি। আজই প্রথম জানতে পারলাম।

Forid-(4).jpg

দুর্গাপুর ওমেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মুনরোজ সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আছে ঠিকই তবে প্রচার-প্রচারণা কম।

আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ইয়াসমিন খান বলেন, যদিও আমি নতুন এসেছি তারপরও খুব ভালো একটা বলতে পারবো না। স্কুলটি বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তালিকাভুক্ত কি-না তাও তিনি জানেন না।

গোয়ালচামট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিবেকানন্দ বসু ২০১৭ সালে অবসরে যান। তার বর্তমান বয়স ৬৩ বছর। তিনি বলেন, আমার সময়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম চালু ছিল। তবে খুব একটা বেশি না।

ফরিদপুর জজ কোর্টের আইনজীবী ও একজন ছাত্রের অভিভাবক শেখ সেলিমুজ্জামান রুকু জাগো নিউজকে বলেন, আমি একজন অভিভাবক হিসেবে, আইনজীবী হিসেবে এই প্রথম আপনার মাধ্যমে এর নাম শুনলাম।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিবেদিতা দাস জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রমই চালু রয়েছে। স্কুলে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পর্কে ধারণাও দেওয়া হয়। তবে শিক্ষক, অভিভাবকরা যদি আমাদের এখানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিতে না পাঠান, তাহলে আমরা কী করতে পারি?

প্রচার-প্রচারণার অভাব নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এখন সবাই আধুনিক হাসপাতাল, ক্লিনিকমুখী। আমাদের এখানে সব থাকতেও সংশ্লিষ্টরা আসে না। অথচ আমরাতো তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য বসে থাকি।

Forid-(4).jpg

এ বিষয়ে জানতে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকী হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ইশরাত জাহান ইলা বলেন, আমাদের কার্যক্রম প্রতিদিনই চলমান থাকে। প্রতিমাসে আটটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়। তবে আমাদেরও কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে। একটা অফিস চালানোর জন্য যা দরকার তা পর্যাপ্ত এখানে নেই। বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। নিজেদের পকেট থেকে এ টাকা খরচ করতে হয়।

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]