ভবদহে জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৪:০৯ পিএম, ০৪ অক্টোবর ২০২১

যশোরের ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

সোমবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোর ও অভয়নগর উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এ আহ্বান জানান।

এ সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, যশোরের দুঃখ গাঁথা ভবদহ সমস্যার সমাধানে একজন জনপ্রতিনিধিও নেই যিনি জনস্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেন। কার্যত ভবদহ সমস্যাকে পুঁজি করে নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কোনো এজেন্ডা নেই।

একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিদর্শনের মধ্যে দিয়েই ভবদহ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

সাংস্কৃতিক জোটের জেলা সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু বলেন, বিগত ৪০ বছর ধরে যশোর ও খুলনা জেলার পাঁচটি উপজেলার লাখ লাখ মানুষ ভবদহের অভিশাপে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দু-তিন ফসলি জমি পানিতে ডুবে থাকায় মানুষের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে। কয়েকমাস ধরে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলার প্রায় ৮০টি গ্রাম পানিতে নিমজ্জিত হয় রয়েছে। এসব গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিশু-কিশোররা নিয়মিত পানি ডিঙিয়েই স্কুলে যাওয়া-আসা করছে। এভাবে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াতেই বারবার পানিতে শরীর ভেজানোর কারণে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা সর্দি-জ্বর, কাশি, চর্মরোগ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। একই অবস্থা কৃষকসহ সাধারণ মানুষের। বরাবরের মতো এখানকার মানুষ ও প্রাণীকুল একই সঙ্গে অবস্থান করছে। টিউবওয়েল পানির নিচে থাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। টয়লেট না থাকায় শিশু-নারী-বৃদ্ধ-পুরুষ সবাই দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। পানির চাপ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

jagonews24

দুলু বলেন, ভবদহের সমস্যা নিরসনে প্রধানত দুটি সমস্যা রয়েছে। প্রথমত ভুল পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়া। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্যর্থতার কারণেই জোয়ারাধার বা টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-টিআরএম বাস্তবায়ন করা যায়নি। বিশেষত ২০১২ সাল জনমতকে উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের তৎকালীন নেতৃত্ব বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়নের চেষ্টা থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। আর এই ঘটনাকে পুঁজি করে টিআরএম না করে বছর বছর বাণিজ্য করার কৌশল বেছে নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক মহল।

সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ভবদহ এলাকা পরিদর্শনে আসার আহ্বান ছাড়াও টিআরএম বাস্তবায়ন, আমডাঙ্গা খালসহ অন্যান্য খাল সংস্কার ও প্রশস্তকরণ, খাল-বিল অবৈধ দখলমুক্ত, বর্তমান রোগব্যাধি দূর করার জন্য তিনটি উপজেলায় পৃথক মেডিকেল টিম গঠন করে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ এবং সাপের উৎপাত থেকে মানুষ ও প্রাণীকুলকে বাঁচাতে ঘরে ঘরে কার্বলিক অ্যাসিড সরবরাহের দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সরাসরি ভবদহ এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জোটের জেলা সভাপতি সুকুমার দাস, সহ-সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুল, প্রচার সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, অভয়নগর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সুনীল কুমার দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক জি এম মেহদী হাসান কাদের, সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মণি প্রমুখ।

মিলন রহমান/এসজে/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।