বাবা নিরুদ্দেশ, ফের বিয়ে করেছেন মা, থাকার জায়গা নেই রিমনের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৪:২১ পিএম, ০৮ অক্টোবর ২০২১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রিমন ইসলাম (২০) প্রায় এক বছর ধরে একটি ঘরের জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু এখনো তিনি ঘর পাননি। ঘরের স্বপ্ন তার অধরাই রয়ে গেছে।

রিমন জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার পুখুরিয়া গ্রামের শরিফ আলীর ছেলে।

রিমনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয় বছর বয়সে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসচাপায় তিনি একটি পা হারান। ওই বছরই পরিবার ছেড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যান তার বাবা। এরপর নানার বাড়ি পুখুরিয়াতে আশ্রয় নেন মা রজিনা বেগম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মায়েরও বিয়ে হয়ে যায়। পরে নানার বাড়িতে থেকেই লেখাপড়া করছিলেন রিমন। দুই বছর আগে জেলা প্রশাসক (ডিসি) নুরুল হক তাকে ভর্তি করান শিবগঞ্জ শেখ রাসেল শিশু নিবাসে। তবে সেখানেও বেশি দিন থাকা হয়নি। বয়স ২০ বছর হয়ে যাওয়ায় তাকে বাধ্যতামূলক বাড়ি পাঠানো হয়।

Rimon-(1).jpg

শিশু নিবাস থেকে ফিরে ফের নানার বাড়িতে ওঠেন রিমন। তবে নানার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় তাকে বাইরে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকে কিস্তিতে একটি ভ্যান কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন পা হারা এ যুবক।

রিমন ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমার থাকার ঘর নেই। সরকারের সহায়তায় একটি ঘর পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, ইউএনও, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘুরেছি। তবে এখন পর্যন্ত একটি ঘর পাইনি।

Rimon-(1).jpg

তিনি আরও বলেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে আমার নানা আর খরচ চালাতে পারেননি। তবে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাই। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

রিমন ইসলামের নানা আজেদ পাটোয়ারী বলেন, আমার মাত্র দুই কাঠা জমি রয়েছে। আমার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। আমার সন্তানদেরই জমিতে থাকার জায়গা হয় না। এই অবস্থায় নাতিকে রাখবো কোথায়?

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি রিমনের থাকার জায়গা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোহান মাহমুদ/এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]