সৈয়দপুরে পাটের ব্যাগ দিয়ে বাঁধ নির্মাণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ০৬:০৪ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০২১

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের কাঙ্গাল পাড়া ব্রিজ সংলগ্ন খরখরিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণে লিও ব্যাগের পরিবর্তে ব্যবহার হয়েছে পাটের ব্যাগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে নামমাত্র সিমেন্ট ব্যবহার করে লিও ব্যাগের পরিবর্তে চটের বস্তা দিয়ে নির্মাণ হয়েছে বাঁধ।

সোমবার (১১ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর পৌরসভার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের সীমানা ঘেঁষে বয়ে চলেছে খরখরিয়া নদী। নদীর কাঙ্গাল পাড়া ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার দুই পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাতে বাঁধ নির্মাণ করেছে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে সামান্য কিছু লিও ব্যাগ চোখে পড়লেও পুরোটাজুড়ে ব্যবহার হয়েছে পাটের বস্তা।

jagonews24

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শেখ কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বন্যা নিয়ন্ত্রণ এ বাঁধ নির্মাণের কাজ পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মোতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কিছু বললে সরকারের বদনাম হয়। না বললে জনগণের ক্ষতি হয়। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটেছে তা সবাই দেখছে। বাঁধ নির্মাণে বালুর বস্তায় সিমেন্ট দেওয়া হয়েছে শুনেছি। কিন্তু সিমেন্ট থাকলে এভাবে বস্তা থেকে বালু ঝরে পড়তো না। যেসব বস্তা দিয়ে বাঁধটি দেওয়া হয়েছে তা কতদিন থাকবে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ব্রিজ সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুলি বেগম জাগো নিউজকে বলেন, এলাকার অনেক মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। কাজটি যেন সঠিক নিয়মে হয়-এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

jagonews24

একই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা কামরুন নাহার বলেন, ব্রিজটা অনেক উঁচুতে। ফলে অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। চটের বস্তায় বালু ভর্তি করে বাঁধ নির্মাণ হলে তা হতাশাজনক।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার সাহেদুল ইসলাম বলেন, মানুষের ভালোর জন্য কাজ করে এখন তাদের অনেক অভিযোগ। তারা বলছে, প্রতি ব্যাগে দশ বাই এক সিমেন্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেদিন অনেকেই দেখেছে, ছয় বাই এক সিমেন্ট দিয়ে বস্তা ভর্তি করেছি।

jagonews24

বাঁধ পরিদর্শনে এসে অভিযোগের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র সরকার।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, যেখানে লিও ব্যাগ দেওয়ার কথা সেখানে দেওয়া হয়েছে। যেখানে চটের ব্যাগ দেওয়ার কথা সেখানে চটের ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে কোনো অনিয়ম জানা নেই। কাজটি ম্যানুয়াল অনুযায়ী হয়েছে।

এএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]