দিনাজপুরের স্কুলে আরেক ‘স্মৃতিসৌধ’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১২:৪০ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

দিনাজপুরের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মিত হচ্ছে জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে নান্দনিক স্মৃতিসৌধ।

এর সঙ্গে একই বেদিতে নির্মাণ করা হচ্ছে শহীদ মিনার। মাঝে স্থাপন করা হয়েছে শহীদের রক্তের আত্মদানে অর্জিত বাংলাদেশের মানচিত্র।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে নির্মাণাধীন এই স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার ও বাংলাদেশের মানচিত্র উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক রতন কুমার রায় জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেনের তৈরি করা নকশায় নান্দনিক স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনারের মাঝে বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন মানচিত্রকে স্থান দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মহান ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আত্মদানের চেতনাবোধকে অনুধাবন করবে এবং হৃদয়ে ধারণ করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা এই বেদির সামনেই দাঁড়িয়ে পিটি প্যারেড করবে। সালাম-অভিবাদন জানাবে। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হবে। পুরো স্বাধীনতার ইতিহাসই ভেসে উঠবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে।

সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর গাজীপুরে স্মৃতিসৌধ সরাসরি দেখতে যাওয়ার সুযোগ হয় না। দেশের এক শতাংশ শিক্ষার্থীও হয়তো সরাসরি স্মৃতিসৌধ দেখেছে কি না সঠিক করে বলা যাবে না। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকায় শিক্ষার্থীরা জানে শহীদ মিনার কী। কিন্তু স্মৃতিসৌধ কী শিক্ষার্থীরা জানে না। তাই স্মৃতিসৌধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সম্পর্কে জানার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের মতো স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্মৃতিসৌধ নির্মাণে কোনো নিষেধাজ্ঞাও নেই, নির্মাণ করলে কোনো অনুমতিরও প্রয়োজন নেই।

নাগরিক উদ্যোগ, দিনাজপুরের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এক লাইনে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও বাংলাদেশের মানচিত্র অভূতপূর্ব এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি এটাকে সাধুবাদ জানাই।

তিনি বলেন, বাচ্চারা একুশের শহীদ মিনার চিনলো, এবার স্মৃতিসৌধ চিনবে। তারা জানবে স্মৃতিসৌধ কী। এর মাধ্যমে তারা জানবে দেশ স্বাধীনের জন্য একটা যুদ্ধ হয়েছে। সেদিক থেকে সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটা অনুকরণীয় কাজ করেছে। এ জন্য তারা প্রশংসার পাওয়ার দাবিদার।

আবুল কালাম আরও বলেন, এটা দেখেই হয়তো আগামীতে প্রতিটি স্কুলে যেভাবে শহীদ মিনার নির্মিত হয়েছে, সেভাবেই হয়তো স্মৃতিসৌধ নির্মিত হবে।

সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী মন্দিরা রায় বললো, ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমার বিদ্যালয়ে এক লাইনে স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার হচ্ছে এ জন্য আমি গর্বিত। আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হোক। প্রতিটি বিদ্যালয়ে যদি এরকম স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয় তাহলে শহীদদের প্রতি আমাদের ভক্তি ও কৃতজ্ঞতাবোধ আরও বেড়ে যাবে। সবাই আমরা জানতে পারবো কাদের জন্য আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে, কাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলছি।

যার চেতনা থেকে এই ধারণা এসেছে সেই সহকারী শিক্ষক মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, দেশে শহীদ মিনার আছে, স্মৃতিসৌধ আছে, আমাদের মানচিত্র আছে। প্রত্যেকটি অর্জনের পেছনে রয়েছে আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্ত দেওয়ার ইতিহাস। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই বাংলাদেশ। আমি বিষয়গুলোকে এক সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সামনে নিয়ে আসার বিষয়টি তুলে ধরলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ধারণাটি গ্রহণ করে এক সারিতে শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, আমাদের মানচিত্র নির্মাণের বিষয়টি অনুমোদন দেয়। যা নির্মাণাধীন রয়েছে। বিষয়টি একজন প্রকৌশলী বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে এসে দেখাশোনা করেন। আমি খুব আনন্দিত যে, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একইসঙ্গে ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের বিষয়গুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে তারা জেনেছেন। তারা বিষয়টিকে সুন্দরভাবে দেখছেন।

স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আরও জানান, স্মৃতিসৌধটি চওড়ায় ১৫ ফুট ও উচ্চতায় ২২ ফুট। এটি কোনো বিদ্যালয়ে নির্মিত জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক প্রথম স্মৃতিসৌধ। উপজেলা প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে মুজিববর্ষ উপলক্ষে এই স্থাপনা নির্মাণ করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এমদাদুল হক মিলন/এমআরআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]