ইউপি নির্বাচন: পটুয়াখালীতে ফের সংঘর্ষ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীতে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১ নভেম্বর) বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের নগরের হাট এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহাজাদা হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নওমালা কলেজ সড়কের সাহা গাজীর বাড়ির সামনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় শাহাজাদা হাওলাদারের কর্মী মো. সজীব (২০) গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহাজাদা হাওলাদারের নগরের হাট বাসভবনে ও দোকানে কামাল হোসেনের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোঁড়াছুঁড়ি ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন বলেন, ‘বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাকর্মী ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াছিন ডাক্তার বাড়িতে গণসংযোগ করতে যান। তখন ঘোড়া প্রতীকের পক্ষের লোকেরা তাদের বাধা দেয় এবং লাঞ্ছিত করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের হাট এলাকায় তারা আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ঘোড়া প্রতীকের এক কর্মী আমার নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। শাহাজাদা হাওলাদারের বাসায় কে বা কারা হামলা চালিয়েছে তা জানি না।’
শাহজাদা হাওলাদার বলেন, ‘আমার কর্মী সজীবকে কামাল হোসেনের কর্মীরা গুলি করেছে। আজও তারা আমার বাসভবনে হামলা চালিয়েছে এবং গুলি করেছে।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সংঘর্ষ ও গুলি ছোড়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় তিন-চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্য থেকে যারা গুলি ছুড়েছে তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।’
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মো. মাহফুজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
আব্দুস সালাম আরিফ/ইউএইচ/এমএস