‘রক মেলন’ চাষে হাসি আলিমের মুখে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পিএম, ০৩ নভেম্বর ২০২১

মাচায় বিদেশি জাতের রক মেলন চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন উপকূলীয় বরগুনার যুবক আবদুল আলিম। স্থানীয়দের কাছে অচেনা হলেও এ ফল চাষ করে দ্বিগুণ লাভের কথা ভাবছেন তিনি। মাচায় এমন চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই এ ফল চাষের পরিকল্পনা করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বরগুনার সদর উপজেলার কালির তবক গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নানের ছেলে আবদুল আলিম অনেক বছর ধরেই কৃষি কাজ করছেন। ইউটিউবে হাইব্রিড জাতের রক মেলন চাষের প্রতিবেদন দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হন। পরে এটি চাষের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তিনি।

foot4

এরপর তার বাবা আবদুল মান্নানের সঙ্গে কথা বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নিয়ে হাইব্রিড জাতের রক মেলন চাষ শুরু করেন। খামারটি প্রতিষ্ঠার পেছনে মা রোফেজা বেগমও দিন-রাত পরিশ্রম করেন। রক মেলন চাষ করে ভালো ফলন পেয়ে প্রথমবারেই সবাইকে চমকে দেন তারা।

চলতি বছরে আগস্ট থেকে শুরু করে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আবদুল আলিম ৮০ শতাংশ জমিতে রক মেলনের বীজ বপন করেন। তবে সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে কিছু বীজ ও গাছের ক্ষতি হয়েছে। পারে বৃষ্টির পানিতে বীজ যেন পচে নষ্ট না হয় সেজন্য উন্নতমানের পলিথিন ব্যবহার করেন। মাচায় এখন রক মেলন ঝুলছে। প্রতিটি রক মেলন ২-৩ কেজি ওজনের। হলুদ বর্ণের রক মেলন দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও অনেক সুস্বাদু।

foot4

তরুণ চাষি আবদুল আলিম বলেন, বিদেশি ফল রক মেলন চাষের কথা শুনে অনেকে নানা কথা শুনিয়েছেন। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের রক মেলন চাষের কথা বললে তারা সঠিক পরামর্শ দেন। পরে তাদের দেখানো পদ্ধতি প্রয়োগ করে জমিতে বীজ বপন ও পরিচর্যা করে আমি সফল হয়েছি।

রক মেলন চাষ করে আবদুল আলিমের সফলতা দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। চাষে আগ্রহী হয়ে দূর থেকে প্রতিদিন মানুষ তার ক্ষেত দেখতে আসেন। স্থানীয় সাবরাজ, সায়েম, নাসির ও ইউনুস শিকদারসহ অনেকেই রক মেলন চাষ করার কথা ভাবছেন।

foot4

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রক মেলন চাষে উৎপাদন খরচ তেমন একটা বেশি না। তবে চাষ করার জন্য নিয়মিত ক্ষেতের যত্ন নিতে হয়। সারাদেশে এমন চাষ ছড়িয়ে দেওয়া গেলে চাষিরা বেশ লাভবান হবেন।

আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।