না জানিয়ে বাড়ি যাওয়ায় মাদরাসাছাত্রকে পিটিয়ে জখম, শিক্ষক পলাতক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ পিএম, ০৫ নভেম্বর ২০২১

বরগুনায় আবদুল আলিম (১২) নামের মাদরাসায় পড়ুয়া এক শিশুকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। আহত শিশুকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বরগুনা সদর উপজেলার পশ্চিম হেউলিবুনিয়া মৃধা বাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক মো. মারুফ হোসেন তালতলী উপজেলার আবদুল খালেকের ছেলে।

আহত শিশুর পরিবার জানায়, উপজেলার পশ্চিম হেউলিবুনিয়া মৃধা বাড়ি হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র শিশু আলিম। শুক্রবার সকালে আলিম শিক্ষকদের না জানিয়ে বাড়িতে চলে আসে। পরে মাদরাসার হেফজ বিভাগের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মারুফ হোসেন আলিমকে দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে মাদরাসায় নিয়ে আসেন। তিনি বেত্রাঘাতসহ বেধড়ক মারধর শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে আলিম অসুস্থ হয়ে পড়লে খবর পেয়ে অভিভাবকরা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

বরগুনা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত মাদরাসাছাত্রের বাবা ফরিদ হাওলাদার বলেন, আমি গরিব মানুষ। রিকশা চালিয়ে ছেলেমেয়ের পড়ালেখা করাই। ছেলেকে হাফেজ বানানোর জন্য মাদরাসায় দিয়েছি, তাকেতো মেরে ফেলার জন্য দেইনি। আমার ছেলের সারা শরীরে বেত্রাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাথি দিয়েছে, পা দিয়ে গলা চেপে ধরেছে, কান ফেটে রক্ত পড়ছে। এভাবে কোনো শিক্ষক কোনো ছাত্রকে মারতে পারে না। এটা বর্বরতার শামিল। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই। আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করবো।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষক মারুফ হোসেন মাদরাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মাদরাসাটির সহকারী শিক্ষক মো. জাবের বলেন, কাজটি ঠিক হয়নি। তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাজা মিয়া বলেন, এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি। অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসা থেকে প্রত্যাহার করা হবে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে এমন একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

 

 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।