এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্টাফকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
উপজেলা পরিষদে কর্মরত এক নারী স্টাফকে ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর স্বামী আমতলী উপজেলা পরিষদের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে কর্মরত ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর ছয় বছর আগে তাকে মাস্টাররোলে উপজেলা পরিষদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ছয় মাস আগে আমতলীতে যোগদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকে তিনি ওই নারী স্টাফকে কারণে অকারণে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করতেন ও কুপ্রস্তাব দিতেন। তাকে দিনে-রাতে ফোনে কল দিয়ে বিরক্ত করতেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে কার্যালয়ে আসেন এসিল্যান্ড নাজমুল ইসলাম। তখন ওই নারী কর্মচারী উপজেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর আবদুস সালামের রুমে বসে ছিলেন। এসময় এসিল্যান্ড সেখানে গিয়ে সালামকে তার রুম থেকে বের হতে বলেন। তখন সালাম রুম থেকে বের হয়ে যান। পরে এসিল্যান্ড ওই নারী কর্মচারীকে খাসজমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে জড়িয়ে ধরে চুমো দেন এবং স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেন। এক পর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। তখন ওই নারী চিৎকার দিলে পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পরে ওই নারী উপজেলা পরিষদ ত্যাগ করেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী কর্মচারী বলেন, এসিল্যান্ড স্যার প্রায়ই আমাকে তার রুমে ডেকে নিয়ে কুপ্রস্তাব দিতেন এবং যৌন হয়রানি করতেন। আমি বিষয়টি কয়েকজনকে জানিয়েছি। বৃহস্পতিবারও তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরেন এবং ধর্ষণচেষ্টা চালান। পরে আমি দৌড়ে পালিয়ে যাই। আমি এ ঘটনার বিচার চেয়ে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আমাকে ফাঁসাতে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে অনেক বড় আকারে দেখিয়েছে ষরযন্ত্রকারীরা।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আমতলীর ইউএনওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি এখন ছুটিতে আছেন। তিনি এলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসআর/জিকেএস