চুরির অপবাদে কিশোরকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০২১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫ হাজার টাকা চুরির অপবাদে ১৩ বছরের এক কিশোরকে শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বাবার চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের এলেমপুর গ্রামে দুই মাস আগে ঘটনাটি ঘটে। তবে সোমবার (৮ নভেম্বর) ওই কিশোরকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে আবুল বাশার নামে অভিযুক্ত একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভিডিওতে দেখা যায়, চুরির অপবাদ দিয়ে এক কিশোরের পায়ে শিকল বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। এ সময় কিশোরকে উচ্চ স্বরে কান্না করতে শোনা যায়।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনা আমি শুনেছি। আবুল বাশার মারধরের কথা স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী কিশোরের পরিবার সোমবার রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনা সম্পর্কে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য এসাহাক জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনা অনেকদিন আগের। তখন আমাকে জানিয়েছিল। কিন্তু আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আমাকে ফোন করে ফেরানো হয়েছে। বলা হয়েছে, এলেমপুর গ্রামের মাতব্বর মোশাররফ আকন নাকি সালিশ করে মীমাংসা করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইরে মাতব্বর মোশাররফ আকন জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনা দুই মাসের বেশি হয়েছে। তখন ভিডিও হয়েছে তাতো জানি না। কিন্তু আমি তখন এলাকার আরও দু-তিন জনকে নিয়ে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে যারা মেরেছে তাদের দুই হাজার টাকা জরিমানা করে মীমাংসা করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, আমি দেখিনি, তাদের বক্তব্যর মাধ্যমে শুনেছি ওই কিশোরকে তারা বেধড়ক মারধর করেছে। আমার কাছে আবুল বাশার অভিযোগ করেছে আগেও নাকি ছেলেটি তার ঘর থেকে টাকা নিয়েছে। কিশোরের বাবা ও আবুল বাশার চাচাতো ভাই।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করা হয়। পরে আবুল বাশার নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/এসজে/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।