স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে মারলেন নৌকার সমর্থকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০১:২৯ এএম, ২৮ নভেম্বর ২০২১

যশোরের শার্শায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সমর্থকরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত কুতুবউদ্দিন (৪৫) রুদ্রপুর গ্রামের মহিউদ্দিন সরদারের ছেলে। আহতরা হলেন- কায়বা ইউনিয়নের রুদ্রপুর গ্রামে মহিউদ্দিন সরদারের ছেলে শাহাবুদ্দিন (৩২), একই এলাকার মৃত ফকির চাঁনের ছেলে আলাউদ্দিন (৫০) ও আরশাদ আলী (৬০), আব্বাস আলীর ছেলে ইকতিয়ার আলী (২৫) ও আফছার আলীর ছেলে ইউনুস আলী (৪০)।

আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরমধ্যে আলাউদ্দিনের অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহত কুতুবউদ্দিনের ছোট্ট ভাই শাহাবুদ্দিন অভিযোগ করেন, কায়বা ইউপি নির্বাচনে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আলতাফ হোসেনের কর্মীরা যাতে ভোটের মাঠে না যায়, সেজন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হাসান ফিরোজ টিংকুর সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। শনিবার রাতে নৌকার সমর্থক ইসমাইলের নেতৃত্বে ৮/১০ জন কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক কুতুবউদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে ইসমাইলের সঙ্গে কুতুবের বাগবিতণ্ডা হয়। পরে রড এবং কাঠ দিয়ে ইসমাইল ও তার লোকজন কুতুবকে মারধর শুরু করে। কুতুবউদ্দিনকে বাঁচাতে গিয়ে আরও ৬/৭ জন হামলার শিকার হন।

পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুতুবউদ্দিন মারা যান।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাহিদ শাহরিয়ার সাব্বিব জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কুতুবউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে খুলনায় রেফার্ড করা হয়েছে।

নাভারণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান সাংবাদিকদের জানান, দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

মিলন রহমান/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]