হাতির আক্রমণেই প্রাণ হারালেন ফাঁদ পেতে হাতি হত্যাকারী!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:৩৬ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় হাতির আক্রমণে জানে আলম (৩৭) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি হারবাং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শামশুল আলমের ছেলে।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে জানে আলম চকরিয়ার জঙ্গল হারবাং এলাকায় যান। সেখানে বুনো হাতির পাল তাকে আক্রমণ করে। হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জানে আলমের মৃত্যু হয়।

জানে আলম বৈদ্যুতিক ফাঁদ পেতে হাতি হত্যার ঘটনায় বন বিভাগের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি। গত ১৩ নভেম্বর জঙ্গল হারবাং এলাকায় ওই হাতিটি হত্যা করা হয়। এর দুসপ্তাহের মাথায় হাতির আক্রমণে মারা গেলেন তিনি।

রোববার (২৮ নভেম্বর) কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও-উত্তর) মো. আনোয়ার হোসেন সরকার জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বৈদ্যুতিক তারের ফাঁদে ফেলে ১৫-১৭ বছর বয়সী একটি পুরুষ হাতি হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় জানে আলম ২ নম্বর আসামি ছিলেন। তবে হাতির আক্রমণে জানে আলমের মৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গল হারবাং এলাকায় খেতের ফসল রক্ষার জন্য জানে আলমসহ কয়েকজন বৈদ্যুতিক তার পুঁতে রেখেছিলেন। বন্য হাতির দল খাদ্যের সন্ধানে জমিতে নেমে আসলে ফাঁদে জড়িয়ে একটি পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকিয়ে হাতি হত্যার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামল হয়।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধেছুয়া পালং রেঞ্জের রেঞ্জার ও হাতি নিয়ে কাজ করা বন কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘হাতি স্বল্প সময়ের জন্য তার ওপর হুমকি সৃষ্টিকারীকে চিনতে পারে। সে অনুযায়ী নিজ গোত্রের কাউকে হত্যার প্রতিশোধও নিতে পারে হাতির পাল। এটিও তেমনই একটি ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।’

চলতি নভেম্বর মাসে শেরপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে গুলিতে ও বিদ্যুতায়িত হয়ে অন্তত আটটি হাতির মৃত্যু হয়। প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন হাতিকে মহাবিপদাপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত করেছে।

সায়ীদ আলমগীর/এএএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]