ছোট যমুনার বুকে পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৭:০৩ পিএম, ৩০ নভেম্বর ২০২১

শীতকাল চলে আসায় কমেছে নদীর পানি। তাই শুরু হয়েছে পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ দলবেঁধে নামেন নদীর হাঁটুজল পানিতে। তাদের পলোর নিচে ধরা পড়ে নানা জাতের দেশীয় মাছ।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বালুভরা এলাকায় ছোট যমুনা নদীতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। নদীতে উৎসব উৎসব ভাব বিরাজ করছে।

বাঁশ ও জাল দিয়ে ছোট বড় অসংখ্য পলো তৈরি করা হয়েছে। আগে থেকেই এলাকায় মাছ ধরার ঘোষণা দেওয়া। তাই এই এলাকার শৌখিন ও পেশাদার শিকারিরা মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়েছেন। এ এক গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। বংশপরম্পরায় চলে আসছে এভাবে মাছ ধরা। আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের শত-শত মানুষ আসেন মাছ ধরার এ উৎসবে অংশ নিতে। উৎসুক গ্রামবাসী নদীর পাড়ে বসে দেখছেন এ উৎসব।

মাছ ধরার উৎসবে অংশ নেয়া স্থানীয় কোলা গ্রামের তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘হামি পেশায় একজন কৃষক। প্রতি বছরের শীতের এ সময়োত নদীর পানি কুমা যায়। তখন আশপাশের গ্রামের মানুষরা একলগে মিলা পলো দিয়া মাছ ধরি। আজক্যা এ মাছ ধরার উৎসোবত প্রায় দেড়শো থ্যাকা দুশজনের মতো অংশ লিছে।’

বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী গ্রামের লিটন হোসেন বলেন, ‘চারদিন আগে বালুভরা গ্রামের কয়েকজন মিলা মাইকিং করিছে যে আজক্যার এ দিনোত দুপুর ১২টার সময় বালুভরা ব্রিজের নিচে নদীত থ্যাকা পলো দিয়া মাছ ধরা হবে। তাই আগে থাকাই বাঁশ ও জাল দিয়া পলো তৈরি করা রাখিছি। আজক্যা আসা এখন পর্যন্ত তিনডা বোয়াল মাছ পলো দিয়া ধরিছি।

স্থানীয় বালুভরা গ্রামের সাহদত হোসেন বলেন, কোলা, ভান্ডারপুর, বিলাশবাড়ী আক্কেলপুরসহ আজকে প্রায় পাঁচ-সাত গ্রামের দুশো জনের মতো মানুষ অংশ নিয়েছে মাছ ধরা উৎসবে। ছোট যমুনা নদীতে বোয়াল, কই, শিং, পুঁটি, শোলসহ বেশ কয়েক জাতের মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সবাই মিলে অংশ নিতে পেরে আমাদেরও অনেক ভালো লাগছে। বছরের একটি দিনেই আমরা এই নদীতে এমন আয়োজন করে থাকি।

Na-(2).jpg

অন্যদিকে, পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর দুপাড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আসেন। ভান্ডারপুর গ্রামের রিপন হোসেন বলেন, রাস্তা দিয়ে নওগাঁ শহরের ব্যক্তিগত কাজে যাচ্ছিলাম। একসঙ্গে এত মানুষের মাছ ধরা দেখে নদীর কাছে না এসে আর পারলাম না। তাই এসেছি মাছ ধরা দেখতে। অনেক ভালো লাগছে এমন আয়োজন দেখে। নদীমাতৃক এ দেশে এমন আয়োজন নদীতে না হলে তো কেন জানি এক ধরনের অপূর্ণতা রয়ে যায়।

স্থানীয় শ্রীরামপুর গ্রামের নবম শ্রেণী পড়ুয়া শিক্ষার্থী সাদিক হোসেন বলেন, দুপুরে মাছ ধরা শুরু হয়েছে নদীতে, সেটা জানার পর আমিসহ আমার তিন বন্ধু এসেছি দেখতে। একসঙ্গে এত মানুষ মাছ ধরছে দেখে অনেক ভালো লাগছে।

বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে বলেন, নওগাঁ জেলায় রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী ও খাল-বিল । শীতকালে নদীর পানি শুকাতে শুরু করে। যার কারণে নদীপাড়ের গ্রামবাসী পলো দিয়ে মাছ ধরার উৎসবে মেতে ওঠে। এটা গ্রাম-বাংলার একটি প্রাচীন উৎসব। এ সময় নদীগুলোতে প্রচুর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। তবে নদীপাড়ের জমিগুলোতে কৃষকরা যে কীটনাশক বিষ প্রয়োগ করে থাকে, সেই জমির পানি নদীতে গিয়ে মিশার কারণে মাছের প্রজনন ধ্বংস হতে পারে। তবে প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিয়ে থাকি।

আব্বাস আলী/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]