পাঁচদিন সাগরে ভাসার পর ১৩ জেলে ভাসানচরে উদ্ধার
ইঞ্জিন বিকল হয়ে বঙ্গোপসাগরে ভাসতে থাকা বরগুনার ১৩ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের কোস্টগার্ড সদস্যরা। প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে রোববার (৫ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তাদেরকে ভাসানচরের কোস্টগার্ড ক্যাম্পে নিয়ে রাখা হয়েছে।
সোমবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ভাসানচর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) অরুণ মিত্র।
তিনি বলেন, জেলেদের অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভাসানচর কোস্টগার্ডের তত্ত্বাবধানে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবাই বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা পৌরসভার বাসিন্দা।
হাতিয়া কোস্টগার্ড জানায়, মোবাইলে সংবাদ আসে একটি ফিশিং ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে সাগরে ভাসছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা যায় এটি হাতিয়ার পূর্বপাশে গাংঘুরিয়ার চরের নিকট সাগরের মধ্যে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারের জন্য বলা হয় ভাসানচর কোস্টগার্ডকে। তারা চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে গভীর সাগর থেকে ট্রলারটি উদ্ধার করে ভাসানচর নিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া ট্রলারের মাঝি এমাজল হক (৫০) জানান, গত ২৮ নভেম্বর তারা পাথরঘাটা থেকে মাছ শিকারের জন্য সাগরে যান। দুদিন পর অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর তাদের ট্রলারের ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে যায়। এরপর থেকে তারা সাগরে ভাসতে থাকেন। পাঁচদিন পর রোববার বিকেলে মোবাইলে নেটওয়ার্ক পেয়ে পাথরঘাটার ট্রলারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মালিকের দেওয়া তথ্য মোতাবেক ভাসানচর কোস্টগার্ড রোববার রাতে তাদের উদ্ধার করে ভাসানচরে নিয়ে আসে।
এমাজল মাঝি জানান, ট্রলারে তিনিসহ ১৩ জন জেলে ছিলেন। তাদের সবার বাড়ি পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে। ট্রলারটির মালিক পাথরঘাটা উপজেলার মো. সোহাগ হাওলাদার। ভাসানচরে অবস্থান করে ইঞ্জিন মেরামত করে বাড়ি ফেরার ইচ্ছা আছে তাদের। ট্রলারে থাকা ১৩ মাঝি মাল্লার সবাই সুস্থ আছেন বলেও জানান তিনি।
ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জিকেএস