তিনদিনের বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে কৃষকের কাটা ধান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি মাগুরা
প্রকাশিত: ০৩:৫৯ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

তিনদিনের টানাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মাগুরায়। বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে প্রধান ফসল রোপা আমন ধানসহ মসুর, রবি সরিষা, রসুন, পেঁয়াজ ও শাকসবজির ক্ষেত। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার চাষি। ফসল রক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করেও এই বৃষ্টিতে মিলছে না শ্রমিক। ফলে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে ধান।

মাগুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সদর উপজেলায় রোপা আমন ধান চাষ হয়েছে ২৩ হাজার ৬৫৫ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৮ হাজার ৯২০ টন।

সরেজমিন জেলার শত্রুজিৎপুর, মঘীর মাঠ, বড়বিল, বেরইল, আমুড়িয়া, গঙ্গারামপুরসহ শ্রীপুর আলাইপুর গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কাটা ধান। অনেক ক্ষেতে ধান পচে গেছে। অন্তত বিচালি (খড়) যাতে পাওয়া যায় সে চেষ্টায় ব্যস্ত কৃষকরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছর এক বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করতে সবমিলিয়ে খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বর্তমানে শ্রমিক খরচ আরও প্রায় তিন হাজার টাকা বেড়ে ১৫ হাজারে ঠেঁকছে। গোখাদ্য বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার্য বিচালি বা খড় পচে যাওয়ায় ক্ষতি আরও বেড়েছে।

চাউলিয়া ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণত এক বিঘা (৪৬ শতক হিসেবে) জমিতে ৩০ মণ হারে ফলন হয়। সেখানে বৃষ্টির কারণে পানিতে ডুবে যাওয়ায় আট থেকে ১০ মণের মতো ধান ঝরে যাবে। বিচালিও পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

jagonews24

কৃষিশ্রমিক আলী বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় মাঠের কাটা ধানগুলো পানিতে ডুবে গেছে। এখন প্রতি বিঘা জমিতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিক বেশি লাগবে। আগে যেখানে এক বিঘা জমিতে খরচ হতো আড়াই হাজার টাকা, সেখানে এখন অতিরিক্ত খরচ হবে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এখনতো বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করার মতো শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।’

সদর উপজেলার কৃষক সোহেল বলেন, তিনদিনের বৃষ্টিতে বিচালির ক্ষতি হবে। এই ধান থেকে পরে বীজও করা সম্ভব হবে না। ধান কলো হয়ে যাবে এবং ভাতও খাওয়া যাবে না। এ অবস্থায় সরকার যদি কোনো অনুদান দেয়, তাহলে হয়তো কিছু উপকার হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী মাঠে আসেননি। তারা কোনো পরামর্শও দেননি।

মাগুরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে টানাবৃষ্টিতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জমির পানি দ্রুত বের করে দিলে এবং আবহাওয়া ভালো হলে উল্টেপাল্টে এসব ধান শুকালে ক্ষতি কিছুটা কম হবে। তবে এই বৃষ্টিতে অন্যান্য ফসলের উপকার হবে

এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]