আয়া পদে সেই ‘পছন্দের’ প্রার্থীকে নিয়োগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:১৩ পিএম, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কোলা বিজলী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি হলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সদস্য দুলাল হোসেনের স্ত্রী মুনিয়া আক্তার। পরীক্ষার পর জটিলতা তৈরি হওয়ায় নিয়োগ দেবে বলে জমিদাতা পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃত রহমতুল্লাহ মণ্ডলের ১৫ শতাংশ জমির ওপর ১৯৬৪ সালে অলিখিতভাবে ভবন নির্মাণ করে কোলা বিজলী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সে সময় রহমতুল্লাহর ছেলে দছির উদ্দিন মণ্ডলের চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মাস তাকে হয়রানির পর অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সম্প্রতি বিদ্যালয় থেকে আবারও তিনটি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিলে ১০ জন আবেদন করেন।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়া পদে দছির উদ্দিন মণ্ডলের মেয়ে গোলাপি আক্তারকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দুলাল হোসেনের স্ত্রী মুনিয়া আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

২৯ নভেম্বর আয়া পদে ম্যানেজিং কমিটি সদস্য দুলাল হোসেনের স্ত্রী মুনিয়া আক্তার ও জমিদাতা পরিবারের সদস্য গোলাপি আক্তারসহ পাঁচজন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার আগেই প্রধান শিক্ষকের পছন্দের প্রার্থী মুনিয়া আক্তারকে ‘১৫ লাখ টাকা ঘুসের বিনিময়ে’ চূড়ান্ত করা হয়েছে মর্মে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীর পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। সেদিন নিয়োগ পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল ঘোষণা না করেই চলে যায় নিয়োগ কমিটি।

পরীক্ষার পর জটিলতা তৈরি হলে ২ ডিসেম্বর দাতা পরিবারের সদস্য গোলাপি আক্তারকে আয়া পদে চাকরি দেওয়া হবে মর্মে তার ভাই এসএম মাহাবুব জামানের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করেন। প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ৫ লাখ টাকা দিয়ে আসেন মাহবুব। এ সময় কোলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম স্বপন, কোলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সুজাউল ইসলাম কুদ্দুস ও এসএম মাহাবুব জামানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার পরও তিনি ম্যানেজিং কমিটি সদস্যের স্ত্রী মুনিয়া আক্তারকে নিয়োগ দেন।

বিদ্যালয়ের জন্য জমিদাতা পরিবারের সদস্য এসএম মাহাবুব জামান বলেন, আমাদের সম্পত্তির ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপিত। সে সময় আমার বাবাকে চাকরি দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকমাস ঘুরিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে আমার বোন গোলাপি আক্তারকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা। পরীক্ষার আগে শুনছিলাম প্রধান শিক্ষক তার পছন্দের প্রার্থীকে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছেন। বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে বলা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বোনকে চাকরি দেওয়ার জন্য পরে আমিসহ জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজন গণ্যমান্যকে ডেকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকা চুক্তি করি। সেদিনই নগদ পাঁচ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের হাতে দেই। কিন্তু ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি তার পছন্দের প্রার্থীকেই নিয়োগ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে কোলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান শাহীনুর ইসলাম স্বপন জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগের বিষয় নিয়ে কত চুক্তি হয়েছে জানি না। তবে আমার সামনে মাহাবুব থেকে প্রধান শিক্ষক পাঁচ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন।

কোলা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সুজাউল ইসলাম কুদ্দুস জাগো নিউজকে বলেন, প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে পাঁচ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। আগে আরও দুই পদে নিয়োগ হয়েছে। এ তিন পদে প্রায় ৫০ লাখ টাকার নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দুলাল হোসেনের স্ত্রী মুনিয়া আক্তার বলেন, মঙ্গলবার আয়া পদে বিদ্যালয়ে যোগদান করেছি। টাকার বিষয়ে কোনো লেনদেন হয়নি। মানুষ বিভিন্ন কথা বললে তো তাদের মুখ বন্ধ রাখা যাবে না।

তবে পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি। বিষয়টি স্বামী বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দুলাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, স্ত্রীর নিয়োগে কোনো টাকা পয়সা লাগেনি। আন্তরিকতায় চাকরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়োগে টাকার কোনো লেনদেন হয়নি। স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষায় যে পাস করেছে তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বদলগাছী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম জিল্লুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বিধি মোতাবেক পরীক্ষা হয়েছে। পাঁচজনের মধ্যে একজন টিকেছে এবং ফলাফল সেদিনই দিয়ে আমরা চলে আসছি। প্রকাশ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং সেদিনই রেজুলেশন করা হয়। তবে টাকার বিনিময়ে নিয়োগের বিষয়টি আমার জানা নেই।

আব্বাস আলী/এসজে/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]