শিক্ষা অফিস থেকে ২২ শিক্ষকের সার্ভিস বই চুরি!

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি বেনাপোল (যশোর)
প্রকাশিত: ০৪:৪৭ পিএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

যশোরের শার্শা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে ২২ জন শিক্ষকের সার্ভিস বই চুরি হয়ে গেছে। ৪৩টি সার্ভিস বই চুরি হয়ে গেলেও এক মাস পর শিক্ষা অফিসের পেছনে কিছু বই পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় ২১টি। এ ঘটনার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

সার্ভিস বই হারিয়ে যাওয়ায় ২২ শিক্ষকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক প্রাপ্তি, চাকরির নিশ্চয়তা এবং স্থায়ীকরণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

তবে ঠিক কবে বইগুলো হারিয়ে গেছে তা জানা যায়নি। গত অক্টোবর মাসের শেষ দিকে কয়েকজন শিক্ষক তাদের সার্ভিস বই খুঁজতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে ৪ নভেম্বর এ ব্যাপারে শার্শা থানায় একটি জিডি করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। এর কয়েকদিন পর ২১টি সার্ভিস বই পাওয়া যায় শিক্ষা অফিসের পেছনে। তবে এখনও পাওয়া যায়নি ২২টি সার্ভিস বই। শিক্ষা অফিসে কোনো সিসি ক্যামেরা নেই বলে জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সার্ভিস বই তার স্ব স্ব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আলমারি বা লকারে সংরক্ষণ করা থাকে। সরকারি চাকরিজীবীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চাকরির দলিল এই সার্ভিস বই কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য করো ব্যবহার বা সংরক্ষণ করার সুযোগ নেই। একজন সরকারি চাকরিজীবীর ব্যক্তিগত তথ্য, পেশাগত তথ্য, আর্থিক সুবিধাদির সব বিবরণ সার্ভিস বইতে ধারাবাহিকভাবে চাকরির শুরু থেকে শেষদিন পর্যন্ত লিপিবদ্ধ থাকে। অথচ শার্শা উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ২২ জন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের সার্ভিস বই উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার সার্ভিস বুকটি না পাওয়ায় খুব চিন্তায় আছি। আমার শিক্ষকতার সব কিছু তাতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আমি শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন সার্ভিস বুক উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি আমরাও চেষ্টা চালাচ্ছি। না পাওয়া গেলে জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে নতুন সার্ভিস বুক ইস্যু করা হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে ফাঁসাতে অফিসের ও শিক্ষকদের মধ্যে কেউ সার্ভিস বইগুলো চুরি করেছেন। এ ঘটনায় গত ৪ নভেম্বর শার্শা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সার্ভিস বই উদ্ধার কার্যক্রম চলমান। ফান্ড পেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

জামাল হোসেন/এসআর/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]